অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব

পাঠকের চিঠি

আমাদের দেশে বর্তমানে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, নিরক্ষরতা, বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সংকট, পদ্ধতিগত দুর্নীতি ইত্যাদির মতো বিস্তৃত সমস্যাগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে দেশের সরকার ও সাধারণ জনগণ। এই জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য আমাদের রয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি রয়েছে ধর্মীয় বৈচিত্র্য। এখানে প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন ভাষাভাষী ও ধর্মের মানুষ বাস করে আসছে সৌহার্দ্য ও সম্প্রতির সঙ্গে। ধর্মের বিভেদ ভুলে গিয়ে এই জনপদের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে যুগের পর যুগ।

বাংলাদেশে চলতি  সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের খারাপ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজার মণ্ডপে মুসলমানদের পবিত্র কোরআন রেখে দেশে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। যারা এই ঘৃণীত কাজের সঙ্গে জড়িত তারা আসলে দুটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেয়ে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি করছে তা হলো দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া। কারণ ঘন ঘন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ  উত্তেজনা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশটির আকর্ষণ হারায়। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) একটি শক্তিশালী অস্ত্র এবং দারিদ্র্য বিমোচন লক্ষ্যসহ দেশের আর্থসামাজিক লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের  মূলধন গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, উৎপাদনক্ষমতা বিকাশ, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় শ্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখার জন্য আমাদের দেশের জনগণকে সচেতন হতে হবে; কারণ দেশের ভেতর অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিংসাত্মক ও নৈরাজ্যকর অবস্থা থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নেয়। অনেক বৈশ্বিক কোম্পানি তাদের প্রধান কার্যালয় সিঙ্গাপুরে সরিয়ে নিচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপিতে বৈদেশিক বিনিয়োগের অবদান ১ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) যদি ৫ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ১০ শতাংশ। দেশকে কাক্সিক্ষত উন্নয়নের লক্ষ্য মাত্রায় পৌঁছাতে আমাদের সবাইকে সচেষ্ট থাকবে হবে যেন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কোনো উম্মাদনা না ছড়ায় দেশে।

দেশে যদি অনুকূল পরিবেশ না থাকে, তবে স্থানীয় বিনিয়োগকারীও বিনিয়োগ বন্ধ করে দেন। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বিরাজ করলে তার ব্যবসা লোকসানসহ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিতে পড়তে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের মঙ্গলের জন্য আমাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে আমাদের জাতিসত্তাকে বহির্বিশ্বের কাছে একটি শান্তি প্রিয় ও শৃঙ্খল জাতি হিসেবে তুলে ধরতে হবে। একজন সুনাগরিকের দায়িত্ব হচ্ছে কোনো বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ ও মন্তব্য করার আগে সেটি কতটুকু মানবিক ও দেশের জন্য কল্যাণকর, তা চিন্তা করা।

আসাদুজ্জামান বুলবুল

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..