প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস: রফতানি আয় বাড়লেও অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের রফতানি আয়ের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। তবে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে রফতানি আয়। আলোচ্য সময়ে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় এক হাজার ৭৩৬ কোটি ডলার। এর বিপরীতে রফতানি হয়েছে এক হাজার ৬৭৯ কোটি ডলারের পণ্য। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ কম। অন্যদিকে গত অর্থবছরের (২০১৫-১৬) একই সময়ে রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৮৩ কোটি ডলার।

গতকাল বুধবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্বিকভাবে অর্থবছরের প্রথমার্ধের রফতানির পারফরমেন্স ইতিবাচক হলেও শেষ মাস ডিসেম্বরে রফতানির সূচক ছিল নিম্ন মুখী। ডিসেম্বরে প্রায় ৩১১ কোটি ডলার রফতানি হয়েছে, যা গত বছরের ডিসেম্বরের চেয়ে ৩ শতাংশ কম। এটা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ২৫ ভাগ পিছিয়ে। কৃষিপণ্য ও শিল্পের পাশাপাশি সেবা খাত হিসাবে কম্পিউটার সার্ভিসের রফতানির হিসাব করা হয়েছে।

সূত্রমতে, অর্থবছরের প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রফতানি হয়েছে বেশ কয়েকটি খাতে। এর মধ্যে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে তৈরি পোশাক খাতে। এ খাতের রফতানির পরিমাণ এক হাজার ৩৭০ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে ৬৮১ কোটি ডলার ও ওভেন গার্মেন্ট খাতে ৬৮৯ কোটি ডলার রফতানি হয়েছে। তবে, ওভেন গার্মেন্ট খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি প্রায় ১০ ভাগ কম হয়েছে। সার্বিকভাবে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি কম হয়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রফতানি হওয়া অন্যান্য খাতগুলো হলো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৬২ কোটি ডলার, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৪৭ কোটি ডলার, হোম টেক্সটাইলে ৩৫ কোটি ডলার, প্রকৌশল পণ্যে ২৩ কোটি ডলার, হিমায়িত ও তাজা মাছে ২৯ কোটি ডলার, চা-সবজিসহ অন্যান্য কৃষি পণ্যে ২৫ কোটি ডলার, পেট্রোলিয়াম বাই প্রোডাক্টসে ১১ কোটি ডলার, রাসায়নিক পণ্যে সাড়ে ৬ কোটি ডলার, তুলা ও তুলা জাত পণ্যে ৫ কোটি ডলার, হাতে তৈরি ফিলামেন্ট পণ্যে ৫ কোটি ডলার, বিশেষায়িত টেক্সটাইলে ৫ কোটি ডলার, পাদুকায় ১২ কোটি ডলার ও কম্পিউটার সার্ভিসে সাড়ে ৭ কোটি ডলার রফতানি হয়েছে। হিমায়িত ও তাজা মাছের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ২৫ কোটি ডলার রফতানি হয়েছে চিংড়ি খাতে।

উল্লেখযোগ্য ওই সব খাতের মধ্যে কৃষিপণ্য, পেট্রোলিয়াম বাই প্রোডাক্টস, হাতে তৈরি ফিলামেন্ট, বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও প্রকৌশল পণ্যের রফতানি গত বছরের চেয়ে কম হয়েছে। এসব খাতে পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রাও। শীর্ষ খাতের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও চামড়া খাতে বেড়েছে।