ধারাবাহিক প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ১৭% প্রবৃদ্ধি রেমিট্যান্সে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্সে প্রায় ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে শুধু সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বরে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগের মাস আগস্টে রেমিট্যান্স আসে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের শুরুর মাস অর্থাৎ গত জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।
সব মিলিয়ে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৪৫১ কোটি চার লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে আলোচিত তিন মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা, জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে বলে মনে করছেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গত অর্থবছর সেপ্টেম্বরে ১১৩ কোটি ৯৬ লাখ রেমিট্যান্স এসেছিল। এ হিসাবে চলতি অর্থবছর সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ৩২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার বা ২৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও আগের বছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল আরও বেশি; ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে শুরু হয়েছে। সাধারণত ঈদের পর প্রবাসীরা কম রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু এবার দুই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বেড়েছে।’ প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় রেমিট্যান্স বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। সেসব দেশে অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন বেশি মজুরি পাচ্ছেন। ফলে বেশি অর্থ দেশে পাঠাতে পারছেন।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মতো।
স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই রেমিট্যান্সে এমন ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ডলার-টাকার বিনিময় হার ছিল ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

সর্বশেষ..