প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অর্থবছরের প্রথম তিন মাস: শিল্পে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ শতাংশ

 

শওকত আলী: চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বেড়েছে শিল্পঋণ বিতরণ। পাশাপাশি এ ঋণের বড় একটি অংশ পরিণত হয়েছে খেলাপিতে। ফলে এ সময়ে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের শিল্পঋণ-সংক্রান্ত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৬২ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকার শিল্পঋণ বিতরণ করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পঋণ বিতরণ করা হয়েছিল ৫৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার। এ তিন মাসে ১৮ শতাংশ বেড়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। তবে এ সময়ে আগের বিতরণ করা ঋণের মধ্য থেকে আদায় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বড় শিল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। মাঝারি শিল্পে পাঁচ হাজার এবং ছোট শিল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।

শিল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এ বিষয়ে এফবিসিসিআই’র ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, কেউ কেউ ব্যবসায় খারাপ করলে সেটা খেলাপি হয়। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয় সেটা মেনে নেওয়া উচিত নয়। এটার শাস্তি হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ১৩ হাজার ৪৪ কোটি টাকার মেয়াদি শিল্পঋণ বিতরণ হয়েছে। আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এ ঋণ ২.৭২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মেয়াদি শিল্পঋণ বিতরণ হয়েছিল ১২ হাজার ৯৯ কোটি টাকার।

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক হাজার ১৭৯ কোটি টাকার শিল্পঋণ বিতরণ করেছে, যা এর আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণ বেড়েছে ২০ শতাংশ। তবে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণ কমেছে ২২ শতাংশ।

বিতরণ করা ঋণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বড় আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। ছোট আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কম গুরুত্ব পেয়েছে মাঝারি আকারের শিল্প।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বড় শিল্পে এ সময়ে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৯ হাজার কোটি টাকা। মাঝারি ও ছোট শিল্পে এ পরিমাণ দুই হাজার ও এক হাজার ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল শেয়ার বিজকে বলেন, ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পাওয়াটা একটি ভালো দিক। কারণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার খেলাপি বেড়ে যাওয়াও একটি খারাপ দিক। কিছু ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবেই খেলাপি হয়। তাদের ঋণগুলো দেওয়ার আগে চিন্তা করা উচিত। দেখতে হবে তার আচরণ কেমন। কারণ ব্যাংকগুলোর তো একটা বড় বিষয় রয়েছে, বড় বড় কিছু শিল্পোদ্যোক্তার পেছন পেছন ঘুরে তারা ঋণ বিতরণ করে। যে খারাপ গ্রহীতা তাকে যদি সেধে ঋণ দেওয়া হয় তাহলে সে তো সুযোগ পেয়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসাটা খুব বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।