সারা বাংলা

অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে

জয়পুরহাটের আমদই ইউনাইটেড মহাবিদ্যালয়

প্রতিনিধি, জয়পুরহাট: জয়পুরহাট সদরের আমদই ইউনাইটেড মহাবিদ্যালয়ের নামে সম্পত্তি জালিয়াতি, প্রায় এক যুগ ধরে পরিচালনা কমিটিতে খলিফা সহোদরদের নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ বাণিজ্য, কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরের সহকারী পরিচালক খালিদ সাইফুল্লাহ ও শিক্ষা কর্মকর্তা আল-আমিন সরকারের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করেছেন।
আমদই ইউনাইটেড মহাবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কাম অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ খলিফা ভ্রাতাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন তাদেরই চাচাত ভাই আনিছুর রহামান খলিফা। তিনি অভিযোগে জানান, আমদই গ্রামের মৃতো জোব্বার ছেলে ও তার আপন চাচাত তিন ভাই কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল ওহাব খলিফা, অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ খলিফা ও উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান খলিফা দীর্ঘদিন ধরে কলেজটিতে আধিপত্য বিস্তার করে সম্পত্তি দখল, নিয়োগ বাণিজ্যসহ কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এসব অনিয়মের মধ্যে ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠাকালে অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে জমির ভুয়া মালিক সেজে ও ভুয়া কাগজ পত্র তৈরি করে উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান খলিফা তার ৭৭ শতাংশ জমি কলেজের নামে দানপত্র করে দেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘ওই তিন খলিফা ভাই’ কলেজটিতে আধিপত্য বিস্তার করে বিভিন্ন পদে প্রায় ১০০ জনবল নিয়োগ বাণিজ্যসহ কলেজের বিভিন্ন খাত (ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন, বিভিন্ন সামগ্রী ও আসবাবপত্র ক্রয়) থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন আনিছুর রহমান খলিফা। এছাড়া অধ্যক্ষ তার অনিয়ম ও দুর্নীতি বহাল রাখতে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে আপন বড় ভাই আবদুল ওহাব খলিফাকে সভাপতি করে অর্ধ শিক্ষিত তল্পিবাহক কিছু লোকদের নিয়ে কলেজটির পরিচালনা কমিটি তৈরি করেন।
স্থানীয় একজন জানান, ইসলামের মহান চার খলিফার জীবন দর্শন বোঝার সামান্যতম ক্ষমতাও যদি এ তিন খলিফার থাকত, তাহলে এ ঘোর মফস্বলে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে এমন অবস্থায় নিতে পরতেন না।
আমদই ইউপি চেয়ারম্যান শাহানুর রহমান শাবু জানান, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের ওপর এমন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন, যা তার কাছে প্রাথমিকভাবে সঠিক মনে হয়েছে। কলেজটির এক পক্ষে তিন সহোদর খলিফা হলেন কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল ওহাব খলিফা, অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ ও উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান খলিফা আর অপরপক্ষের ভুক্তভোগী খলিফার নাম আনিছুর রহমান খলিফা।
চেয়ারম্যান বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১০ বছর কি করে একই ব্যক্তিদের নিয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটি চলছে, তা বোধগম্য নয়। এতে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, অধ্যক্ষ তার মর্জিমতো কলেজটি চালাচ্ছেন। আনিছুর খলিফার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরের সহকারী পরিচালক খালিদ সাইফুল্লাহ ও একই অধিদফতরের শিক্ষা কর্মকর্তা আল-আমিন সরকার এ দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি কলেজে তদন্তে আসছিলেন, সেখানে তিনিও আমন্ত্রিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ খলিফা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কলেজে কোনো অনিয়ম হয়নি, আর আপন চাচাত ভাই মনে করে জমির টাকা প্রমাণ ছাড়াই আনিছুর খলিফাকে আগেই দিয়েছিলাম, এরই মাশুল দিতে হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য আল আমিন সরকার জানান, অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত করা হয়েছে, এর সঙ্গে জমিজমার অন্যান্য কাগজপত্র দেখার পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত করা যাবে, এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগছে।

সর্বশেষ..