সম্পাদকীয়

অর্থ পাচার রোধে আইনি জটিলতা দূর করুন

এবারের বাজেটে অর্থ পাচার রোধে কৌশল নির্ধারিত হয়েছে। অথচ বিদ্যমান আইন এ কাজে বড় বাধা। আমদানির জন্য বিদেশে অর্থ যায়, কিন্তু পণ্য আসে না; আবার পণ্য রফতানি হয়, কিন্তু অর্থ আসে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে লক্ষণ বিচারে অর্থ পাচার বলেই মনে হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে এ রকম ঘটনা ঘটেছে তিন হাজার ২৫ বার, কিন্তু মামলা করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলাটি সরাসরি অর্থ পাচার আইনে রুজু করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইনে এ ধরনের মামলা রুজু হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির শর্ত থাকায় ট্রাইব্যুনাল মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এখন এই আইনি জটিলতা দূর করে অর্থ পাচারের সম্ভাব্য পথ রোধ করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশু উদ্যোগ নেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী বাজেটে করের বোঝা না বাড়িয়ে আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। রাজস্ব আদায়ের নতুন নির্ধারিত ২০টি উৎসের মধ্যে রয়েছে অর্থ পাচার রোধ। তবে কেবল রাজস্ব সুবিধাই নয়, অর্থ পাচার একটি রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা নিঃশেষ করে দিতে পারে। শ্রমঘন শিল্প গড়ে না ওঠার কারণে যেখানে রাষ্ট্র দারিদ্র্য বিমোচনে গতি হারাচ্ছে, সেক্ষেত্রে অর্থ পাচার, অলস অর্থ, কিংবা লুক্কায়িত অর্থের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। নইলে সম্পদের মালিকানায় বৈষম্য আরও ত্বরান্বিত হবে। গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে তিন হাজার ২৫টি বৈদেশিক লেনদেনে চুক্তিভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। এটা নিশ্চয় গুরুতর আশঙ্কাজনক। তবুও সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ এখনও কেন কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না, সে প্রশ্নে বিভিন্ন সন্দেহের উদয় হতে পারে। কার্যত ‘বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭’-এর ২২ ধারার ৩ উপধারায় বলা হয়েছে, এই উপধারা মোতাবেক ট্রাইব্যুনাল কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আমলে নেবে না, যদি সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপধারা মোতাবেক আমলযোগ্য অপরাধ অথবা ‘আয়কর আইন, ১৯২২’-এর ৫৪ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা না দেয়। অর্থাৎ প্রজ্ঞাপন জারিও হচ্ছে না, বাংলাদেশ ব্যাংক বিচারিক ব্যবস্থাও নিতে পারছে না। পাচারকারীরা স্বভাবতই সুযোগ নিচ্ছে। এদিকে আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় যেন প্রজ্ঞাপন জারি করে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থ পাচার আইন ব্যবহার করা যায় কি না, সেটাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..