সম্পাদকীয়

অর্থ পাচার রোধে কঠোর হতে হবে

দেশে থেকে অর্থ পাচার ক্রমেই বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম দিকে এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) প্রতিবেদন বলেছে, ২০১৮ পর্যন্ত পূর্ববর্তী ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়েও বেশি। প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ পাচারে শীর্ষ ৩০ দেশের একটি বাংলাদেশ। সংস্থাটি আরও বলেছে, পণ্য আমদানিতে মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং), রফতানি মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং), হুন্ডি ও ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে এসব অর্থ পাচার হচ্ছে।

দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে অর্থ পাচার বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অবৈধভাবে অর্জিত কিংবা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থই পাচার হয়ে যায়। পাচার হওয়া অর্থ দেশে উৎপাদশীল খাতে ব্যয় করা গেলে বিপুল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো, আমদানি ব্যয় কমত এবং রফতানি আয় বাড়ত।

দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে অর্থ পাচার রোধ করতে হবে, এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সেটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ‘ছয় প্রতিষ্ঠানের পাচার ১৭০০ কোটি টাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গতকালের শেয়ার বিজে। এতে বলা হয়, ছয় প্রতিষ্ঠানের ৬৫ ব্যক্তি ও তিন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় তিন অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচার এবং ২৫ প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের প্রমাণ মিলেছে।

বিভিন্নভাবে পোশাক খাতে রফতানিকারকরা সুবিধা নিচ্ছেন। তাতেও সন্তুষ্ট নয়, প্রায়ই চাপ দিয়ে সুবিধা বাড়িয়ে নেন তারা। এখন পোশাক খাতের ৯ প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের প্রমাণ মিলেছে এটি দুঃখজনক। ব্যাংকগুলো অর্থ পাচার রোধে কর্মশালার আয়োজন করে। সরকারও নানাভাবে প্রচারণা চালায়, এ ধরনের অর্থ সাদা করার জন্য বিভিন্নভাবে ছাড় দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বিদেশের ক্যাসিনোতে টাকা উড়ানোর খবরও জানা গেছে। যারা বিভিন্নভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়-অপব্যবহার করে, ঋণ পরিশোধ না করে কিংবা উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছেন, তারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ঋণ দিতে পারছে না ব্যাংক। আমানত সংগ্রহে আগ্রাসী ভূমিকায় নেমেছে ব্যাংকগুলো। বড় অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংক ও সঞ্চয় অধিদফতর থেকে ঋণ নিচ্ছে রাষ্ট্র। অন্যদিকে কেবল ২০১৫ সালে পাচার হওয়া অর্থ দিয়েই দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা করে কোনোভাবেই অর্থ পাচারকারীদের ছাড় দেওয়া উচিত  নয়।

সর্বশেষ..