প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অর্ধশতাধিক কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা সত্তেও পতন

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেনের গতি দেখে আশা করা গিয়েছিল চলতি সপ্তাহে বাজার ভালোর দিকে যাবে। তাছাড়া গতকাল অর্ধশতাধিক কোম্পানির লভ্যাংশের ঘোষণাও ছিল। অধিকাংশ কোম্পানি ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লভ্যাংশ ঘোষণা করা এসব কোম্পানির দরে কোনো সীমা বা সার্কিট ব্রেকার ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ভালো ঘোষণা দেওয়া এসব কোম্পানির দর বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল তা হয়নি। ঘটেছে উল্টোটা। ব্যাংক খাতের ২৫ কোম্পানির দর বেড়েছে। আমাদের বাজার নিয়ে পূর্বানুমান করে কিছু বলা যায় না। কারণ আমাদের দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকে বড় বড় খেলোয়াড়, নয়তো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। তারা যা চাইবেন বাজার সেভাবেই পরিচালিত হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ৬৮ শতাংশ শেয়ারের দরপতনের পাশাপাশি লেনদেন ও সব কয়টি সূচকের পতন হয়েছে। ব্যাংক ছাড়া বাকি খাতগুলোর বেশিরভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল। তথ্য ও প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, সিরামিক, কাগজ ও প্রকাশনা এবং পাট খাতের শতভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল। গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক খাতে ৮৩ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। এছাড়া বিমা খাতে ৩২ শতাংশ, আর্থিক খাতে ৩০ শতাংশ, ওষুধ খাতে ২৮ শতাংশ, জ্বালানি খাতে ২৮ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ১৮ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাতে মাত্র ১১ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে।

গতকাল ব্যাংক খাতের দরবৃদ্ধি বাজারকে বড় ধরনের পতনের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। ব্যাংক খাতে গতকাল

লেনদেন হয় প্রায় ১৯৬ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি টাকা। লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা বা ৮ শতাংশ। এ খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনবিএল ও রূপালী ব্যাংক দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় স্থান করে নেয়। আর্থিক খাতে লেনদেন হয় ৬৮ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১১ শতাংশ। এ খাতে লেনদেন কমেছে আট কোটি টাকার বেশি। ওষুধ ও রসায়ন এবং প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ করে। ওষুধ খাতে লেনদেন কমেছে প্রায় আট কোটি টাকা। প্রকৌশল খাতে কমেছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। বস্ত্র খাতে কমেছে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে লেনদেন কমেছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা।

গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল সেবা ও আবাসন খাতের সাইফ পাওয়ার টেক। কোম্পানিটি ৩০ জুন, ২০১৭ সমাপ্ত আর্থিক বছরের জন্য পাঁচ শতাংশ নগদ ও ২৮ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। শেয়ারটির দর বেড়েছে দুই দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের ২৭ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংকের সাড়ে ২৪ কোটি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ২১ কোটি, বিবিএস কেব্লস ১৭ কোটি ও আইডিএলসির ১৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।