প্রচ্ছদ শেষ পাতা

অর্ধেকে নেমেছে ডিএসই থেকে রাজস্ব আদায়

চাপের মুখে ব্রোকারেজ হাউজ মালিকরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে রাজস্ব আদায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এ সময়ের ব্যবধানে সরকারের রাজস্ব আদায় কমেছে ৫৭ শতাংশ। লেনদেনের মন্দাবস্থার কারণে সরকারের রাজস্ব আদায়ে এই ভাটা পড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজস্ব কমে যাওয়ার বড় কারণ লেনদেন কমে যাওয়া। তাদের অভিমত দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারে মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকেই পুঁজিবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, যে কারণে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার এবং ইউনিট বিক্রির প্রবণতা কমে যায়। ফলে লেনদেনও কমে যায়, যার জের ধরে রাজস্ব আদায় কমে গেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের আগস্ট মাসে ডিএসইর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে আট কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যার পরিমাণ জুলাই মাসে ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় কমেছে ১১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
চলতি বছরের আগস্টে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন থেকে সাত কোটি ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। আর উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি থেকে আদায় হয়েছে ৯৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগস্ট মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে আট কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
অন্যদিকে আগের মাসে অর্থাৎ জুলাইয়ে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন থেকে আট কোটি ৯৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। আর উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি থেকে আদায় হয় ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে জুলাই মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয় ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর আগের মাসে (জুন) ডিএসইর মাধ্যমে মোট ১১ কোটি ছয় লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন থেকে সাত কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি থেকে আসে তিন কোটি ৪১ লাখ টাকা।
এদিকে পতনের পুঁজিবাজারে হুমকির মুখে পড়েছে ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবসা। আশঙ্কাজনকভাবে লেনদেন কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন হাউজ মালিকরা। ভিন্ন খাত থেকে অর্থ এনে ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন অনেক হাউজ মালিক।
২০১০ সালে ডিএসইতে লেনদেন তিন হাজার কোটি ছাড়িয়ে যায়। সর্বোচ্চ লেনদেন গিয়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ২৪৯ কোটি টাকায়। পরে ধসের কবলে লেনদেন কমতে শুরু করে। সম্প্রতি লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে ৩০০ কোটি টাকার নিচ থেকে ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে। কালেভদ্রে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও তা স্থির থাকছে না। আশঙ্কাজনকহারে লেনদেন কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাউজ মালিকরা। লেনদেনের সঙ্গে তাদের ব্যবসার সম্পর্ক থাকার কারণে ব্রোকারেজ হাউজ চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। তাদের শঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবসা হুমকির মুখে পড়বে।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে হাউজ মালিকরা জানান, বর্তমানে তাদের হাউজ পরিচালনা করতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে, কারণ তাদের প্রধান আয় শেয়ার লেনদেন থেকে প্রাপ্ত কমিশন। ফলে লেনদেন কমে গেলে তাদের আয়ও কমে যায়। বর্তমানে লেনদেন তলানিতে নেমে যাওয়ায় তাদের অবস্থা আরও করুণ হয়েছে। উপায় না পেয়ে অনেক মালিক তাদের অন্য ব্যবসা থেকে অর্থ এনে হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের অবস্থা আরও করুণ হবে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, লেনদেন কমে গেলে হাউজ মালিকদের চিন্তা বাড়ে, কারণ তাদের আয় আসে শেয়ার বিক্রির কমিশন থেকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে লেনদেন হচ্ছে তা কাম্য নয়। বাজারের এই পরিস্থিতি কেন হচ্ছে, সেটা অন্যদের মতো আমারও প্রশ্ন।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তা বলেন, কতিপয় লোক সব সময় পুঁজিবাজার নিয়ে কারসাজি করে। আর এর মাশুল দিতে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারী ও আমাদের। বাজার খারাপ হলে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়, কারণ আমাদের আয় কমে গেলেও খরচ কমে না। এই খরচ জোগাড় করতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়, যে কারণে বাধ্য হয়ে অনেক সময় আমাদের কর্মী ছাঁটাই করা ছাড়া উপায় থাকে না।

সর্বশেষ..