প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অর্ধেক দরে ৮০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে ইরানের দর কষাকষি

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ঘোষিত দরের অর্ধেকে ৮০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ কেনার ব্যাপারে দর কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এর আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ইরান এয়ারের জন্য উড়োজাহাজগুলোর দাম প্রস্তাব করেছিল ১৬ দশমিক ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। খবর রয়টার্স।

বোয়িং ও তার ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস, উভয় প্রতিষ্ঠান চলতি মাসে ইরানের কাছে উড়োজাহাজ সরবরাহের ব্যাপারে দীর্ঘ প্রাথমিক চুক্তি সই করে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেওয়ায় তেহরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এটি প্রথম চুক্তি।

ইরানের সহকারী পরিবহনমন্ত্রী আসগর ফাকিহ কাশান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, ‘বোয়িং  ইরান এয়ারের সঙ্গে ১৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছিল। তবে আমাদের অর্ডার এবং পছন্দের সম্ভাব্য প্রকৃতি বিবেচনা করে ৮০টি বোয়িং উড়োজাহাজের  ঘোষিত ক্রয় চুক্তি থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ দর কমানোর ব্যাপারে দর কষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

এ ব্যাপারে বোয়িংয়ের দুবাই মুখপাত্রের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে এয়ারবাস গত বৃহস্পতিবার ১০০টি জেট বিক্রির ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক প্রস্তাব চুক্তি সই করে। যেখানে চুক্তির আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ইরান এয়ারের প্রধান বলছেন চুক্তির মূল্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিক্রম করবে না।

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সরকার উড়োজাহাজ ক্রয়-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে বাস্তববাদী। বিশ্বশক্তি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এর সঙ্গত ফলাফল দেখাতে চায় রুহানির সরকার। কিন্তু দেশটির সরকারকে উড়োজাহাজ কেনার ব্যাপারে বাড়তি খরচ নিয়ে কট্টরপন্থিদের কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আসগর ফাকিহ কাশান গত রোববার বলেন, ইউরোপীয় বিমান নির্মাণ সংস্থা এটিআর থেকে আরও ২০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধিদল তেহরান আসবেন।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক  নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ইরানের মান্দাতার আমলের বেসামরিক বিমান চলাচল বহর পরিবর্তনে এ ইচ্ছার মাধ্যমে দেশটিতে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ ক্রয়ে এ চুক্তি ব্যাপারে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসন অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির কট্টর সমালোচক।

এর আগে, বোয়িং এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চুক্তিটি মার্কিন সরকার অনুমোদন দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালে উড়োজাহাজের প্রথম চালান হস্তান্তর করতে হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, ১০ বছরের মধ্যে ৫০টি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮, ১৫টি ৭৭৭-৩০০ ইআরএস এবং ১৫টি ৭৭৭-৯এস জেট উড়োজাহাজ ইরানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সবচেয়ে বড় চুক্তি এটিই। চলতি বছরের জুনে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম সমঝোতা চুক্তি হয়।

এটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় এ খাতটি আরও আধুনিক হবে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বোয়িং এয়ারবাসকে ইরানের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন করে।