কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ

সাপ্তাহিক বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে এক কোটি ৭৩ লাখ ৪২ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৮ কোটি ৬৭ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ৪৯ শতাংশ বা ৭ টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৮৩ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৮৩ টাকা। দিনজুড়ে এক লাখ দুই হাজার ৭৯৭টি শেয়ার মোট ৭৭৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ৮৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৮৪ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১৫৪ টাকা থেকে ২৭৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে  কোম্পানিটি। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৯ টাকা ৩৬ পয়সা, আর ২০১৯ সালের ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৯ পয়সা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করে আট টাকা ৯৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হয় ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা। আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে আট টাকা ২২ পয়সা ও ২৭ টাকা সাত পয়সা। ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫২১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বিদেশি ৪০ দশমিক ০৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ৭ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৯৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার শেয়ার।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসম্বের সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে পাঁচ টাকা ১৭ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৮৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় যথাক্রমে চার টাকা ৮৪ পয়সা ও ২৪ টাকা ৮০ পয়সা ছিল।

‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। দুই হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ২৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ৯০৬ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ১২৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৭টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক সাত দশমিক শূন্য এক শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে পাঁচ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৯ দশমিক ৭৩ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১৩ দশমিক ৬৭।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিটদর বেড়েছে ৮ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে ফান্ডটির প্রতিদিন ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকার ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকার ইউনিট।

তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ছয় দশমিক ৮৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন দুই কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার টাকার শেয়ার। তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি রেনাটা লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ছয় দশমিক ১৮ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন এক কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ছয় কোটি ২৭ লাখ সাত হাজার টাকার শেয়ার।

তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন দুই কোটি ৭৩ লাখ ৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার।

তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি মতিন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ৭৮ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে তিন লাখ ৯২ হাজার টাকার শেয়ার। অষ্টম স্থানে রয়েছে ব্যাংক খাতের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ২২ লাখ ৬৩ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে এক কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার টাকার শেয়ার। তালিকার নবম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে চার দশমিক ৬৮ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন দুই কোটি ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৬১ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার। আর দশম স্থানে থাকা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে চার দশমিক ৬৫ শতাংশ। কোম্পানিটির প্রতিদিন এক কোটি ৬৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ২৮ হাজার টাকার শেয়ার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..