মত-বিশ্লেষণ

অসচেতনতাও শিশুবিয়ে বৃদ্ধির জন্য দায়ী

শিশু হেল্পলাইনে প্রাপ্ত শিশুবিয়ের ঘটনা মহামারির সময়কালে যথেষ্ট বেড়েছে। গত এপ্রিলে হেল্পলাইনটিতে শিশুবিয়ের রোধ-সম্পর্কিত ৪৫০টি কল এসেছিল। আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩২২। এতে বোঝা যায়, শিশুবিয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও রয়েছে।

দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন এমন শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়াকে এই প্রবণতার প্রকৃত কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ভৌগোলিকভাবে বাস্তুচ্যুতি (শহুরে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে না পেরে ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে অনেক মানুষ শহর থেকে গ্রামে চলে আসে) এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবকেও তিনি দায়ী করেন শিশুবিয়ের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য।

প্রশাসনের বেশিরভাগ মনোযোগ এখন যেহেতু দেশব্যাপী বন্যার আঘাত ও অব্যাহত কভিডপরিস্থিতি মোকাবিলা করার দিকে, তবুও শিশু হেল্পলাইনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ সুযোগে বেশ কিছু অভিভাবক গোপনে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন।

১৬ বছর বয়সি সুরমার (প্রকৃত নাম নয়) বিয়ে হেল্পলাইনের মাধ্যমে এরই মধ্যে একবার বন্ধ করা হয়েছিল। তবে তার পরিবার কভিড-১৯ লকডাউনের সুযোগে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে যখন মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেছিল, তখন সুরমা আবার হেল্পলাইনের মাধ্যমে সাহায্য চেয়েছিল। কর্মকর্তারা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন, পরিবারটি তখন আবারও বিয়ে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে কর্মকর্তারা রাত ১১টায় সুরমার বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত ২টায় তারা সুরমার বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করায় পরিবারটি বেশ আর্থিক চাপের মধ্যে ছিল।

আয় কমে যাওয়া শিশুবিয়ের প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে কি না, তার প্রতিক্রিয়ায় ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান নাটালি ম্যাককলে বলেন, ‘দারিদ্র্য অবশ্যই শিশুবিয়ের অন্যতম প্রধান প্রভাবক। তবে কভিডের কারণে আয় কমে যাওয়ায় দারিদ্র্যের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিশদ তথ্য জানা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, তবুও মহামারির প্রভাবে যেসব পরিবারের আয় কমে গেছে, তাদের জন্য উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ এবং ঝুঁকিতে রয়েছে এমন পরিবারগুলোর বিভিন্ন ধরনের সেবা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সামাজিক সেবাকর্মীদের শক্তিশালী করা এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..