মত-বিশ্লেষণ

অসমতা ও বৈষম্য মোকাবিলায় নতুন প্রতিশ্রুতি দরকার

বিশ্বজুড়ে যারা সম্মুখ সারিতে বা অগ্রভাগে কাজ করছেন, যারা অপরিহার্য শ্রমিক, যারা জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত, তারা ঝুঁকিতে আছেন। তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেশি, কারণ তারা অনেক বেশি ঝুঁকিতে আছেন এবং তাদের যত্ন ও চিকিৎসা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর এ বিষয়টি আমাদের সবার জন্যই ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধনী বা গরিব যা-ই হোক না কেন, আপনার প্রতিবেশী অসুস্থ হলে আপনিও অসুস্থ হতে পারেন। প্রত্যেকের জন্য এই সংকটের সমাপ্তি না ঘটলে তা কারও জন্যই সমাপ্ত হবে না।

আর দারিদ্র্য নাটকীয়ভাবে বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী আর্থিক দিক দিয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোয় বসবাসকারী শিশুর সংখ্যা ২০২০ সালের শেষে আনুমানিক ১৪ কোটি ২০ লাখ বেড়েছে। তবে দারিদ্র্যের প্রভাবগুলো স্বাস্থ্যের বাইরেও রয়েছে। দরিদ্রতম শিশুরা কেবল ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষার ক্ষেত্রেই সবচেয়ে কম সক্ষম নয়Ñতারা দূরশিক্ষণ, হাত ধোয়ার উপকরণ ও সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও সবচেয়ে কম সক্ষম। মানবিক সংকটময় এই পরিস্থিতিতে বসবাসকারী শিশুদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো এখনও অনেক বেশি মাত্রায় রয়ে গেছে।

দরিদ্র পরিবারে বড়দের মতো শিশুরাও যে কেবল দ্বিগুণ ঝুঁকিতে আছে তা নয়, সারাজীবনের জন্য এর অপরিবর্তনীয় পরিণতিতে ভোগার ক্ষেত্রে তারা আরও বেশি সংবেদনশীল। খুব কম ক্ষেত্রেই শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পুষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা বা ভালো মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সুযোগ পায়, যা তাদের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে সাফল্য ও সমৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম করে তোলে। পদক্ষেপ না নিলে খারাপ পরিণতি আজীবন স্থায়ী হতে পারে।

ক্লোভার সুস্পষ্টভাবে যেমনটা বলছেন, শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠী শক্তিহীন নয়। প্রতিটি শিশুই যাতে সমাজে অবদান রাখার সুযোগ পায় এবং লিঙ্গ, বর্ণ, জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। অসমতা ও বৈষম্য মোকাবিলায় আমাদের নতুন প্রতিশ্রুতি দরকার। মহাসচিব গুতেরেস এ বছর যেমনটা বলেছেন, কেবল সুরক্ষা নীতিমালায় নতুনত্ব আনা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকেন্দ্রিক কর্মসূচি ও নীতিমালার মাধ্যমে আমাদের অবশ্যই গভীরে প্রোথিত লিঙ্গ, বর্ণ বা জাতিগত বৈষম্য মোকাবিলা করতে হবে। অনেক বেশিসংখ্যক শিশু মৌলিক সেবাগুলো নেয়ার সুযোগ পায় না, যা অগ্রহণযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ কভিড-১৯ ও অন্যান্য রোগের বিস্তার ঠেকানোর ক্ষেত্রে পরিষ্কার পানি ও সাবান হচ্ছে একেবারে মৌলিক উপকরণ। শিশুদের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে বাঁচাতে ইকুয়েডর ও অন্যান্য দেশের বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিদ্যালয়গুলোতে প্যাডাল দিয়ে চালানো যায় এমন বহনযোগ্য হাত ধোয়ার স্থাপনার মতো উদ্ভাবনী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..