প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অসময়ের বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রণোদনা দিন

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের দেশের আবহাওয়া অনবরত বদলে যাচ্ছে। ফলে কৃষিক্ষেত্রে নানা রকম ফসলের সময়মতো উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের কৃষির গতি-প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে মারাত্মকভাবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই আমাদের কৃষি প্রতিনিয়ত প্রকৃতির বৈরী পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এগিয়ে চলছে। কিন্তু আমাদের কৃষক দিন আনে দিন খায়। তা সত্ত্বেও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলমান অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন তারা। অসময়ে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হলে গ্রামীণ দরিদ্র বড় বিপদে পড়েন।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসময়ে বৃষ্টিতে যশোরের প্রান্তিক চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা তিন বৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গেছে এ অঞ্চলের শত শত কৃষকের স্বপ্ন। ফসলের এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন কি না, সে চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সহায়তা করছেন তারা।

সরকারি প্রতিষ্ঠান যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, তিন দিনের বৃষ্টিতে জেলার আট উপজেলার প্রায় আট হাজার হেক্টর জমির কেটে রাখা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যায় ২৫৩ হেক্টর জমির বীজতলা। এছাড়া গম ২৬ হেক্টর, আলু ২৫০ হেক্টর, সরষে ৯ হাজার ৯১০ হেক্টর, মসুর চার হাজার ১৬৩ হেক্টর ও চার হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে থাকা সবজি পানির নিচে চলে গেছে।

কৃষকদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উৎস উৎপাদিত ফসল। সবজিজাতীয় ফসল পানিসহিষ্ণু নয়। সামান্য বৃষ্টিতে পচে যায়। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে থাকা সব ফসলই বিনষ্ট হয়ে গেছে। আবহমানকাল ধরে প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে মানুষের আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন কৃষক। এমন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। এখন জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রণোদনা ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তারা চাষের খরচ পাবেন কোথায়। একজন সবজিচাষি শেয়ার বিজকে বলেছেন, মাত্র কয়েক দিন আগে দুই দফা বৃষ্টির কারণে আমরা ক্ষতিতে পড়ি। সে সময় যেসব জমিতে সবজি চারা রোপণ করেছিলাম, তা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় দফা সবজি চাষ করে এখন তিন দিনের বৃষ্টিতে তা সব শেষ করে দিয়ে গেছে। এমন বক্তব্যে কৃষকের অসহায়ত্বই ফুটে ওঠে।

আমাদের উচিত, তাদের পাশে দাঁড়ানো। মাঠে-প্রান্তরে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিলে কৃষকরা ভরসা পাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করতে হবে। যেহেতু বিস্তীর্ণ এলকার ফসলহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, তাই সরকার কৃষকদের সহায়তার বিষয় বিবেচনা করবে বলেই ধারণা। ক্ষতিগ্রস্তদের যারা ব্যক্তি বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ফসলের পরিচর্যা করেছেন, তাদের অসহায়ত্বের সুযোগে পাওনাদাররা যেন বিপদে না ফেলতে পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।