অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে দেশে কোকোর স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না। পুরোনো সমস্যাগুলোর পাশাপাশি শরীরে নতুন রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে দেখতে রোববার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসেছেন তার প্রয়াত ছোটছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার কাছে যান বলে জানা গেছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করতে আজ সোমবার বিকেল চারটায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানাবেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে সরকারকে জানানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার বোন সেলিমা ইসলাম।

সোমবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন,  ‘খালেদা জিয়ার অবস্থা ভালো না। জ্বর আসে, কিডনির সমস্যা আছে, সুগার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আরও নানা জটিলতা আছে। এ জন্য আমরা সরকারকে বারবার বলেছি যে তাঁকে বিদেশে পাঠাব। কিন্তু সরকার তো কিছুতেই রাজি হচ্ছে না। তাঁর যে জটিলতা, এখানে এর চিকিৎসা সম্ভব নয়, বিদেশে যেতে হবে।’

গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর গত দুই সপ্তাহে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।  

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসে তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হন। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সেরে উঠলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় ২৭ এপ্রিল তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন। এর মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান। ১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকার নেওয়ার পর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন খালেদা জিয়া।  

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ তাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। এ পর্যন্ত চার দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির সময় বৃদ্ধি করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আবেদন জানানো হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১১  জন  

সর্বশেষ..