বিশ্ব সংবাদ

অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধে ইইউ’র প্রতি ব্রিটেনের আহ্বান

ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্য আমদানিতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেক্সিট-পরবর্তী যে পরিকল্পনা ছিল তা অনেকটা শিথিল করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কারণ এ পদক্ষেপ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও ক্ষতি করবে এবং যুক্তরাজ্যের সুপার মার্কেটগুলোয় মারাত্মক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নবিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড ফ্রস্ট বলেন, সার্বভৌম ক্ষমতার দিক দিয়ে সমান দুটি পক্ষ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত অসৎ উদ্দেশ্য পরিহার করে ব্রিটেনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। গতকাল দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

একাধিক শিল্প সূত্র পর্যবেক্ষককে বলা হয়েছে, বরিস জনসনের নতুন ব্রেক্সিটমন্ত্রী ফ্রস্ট ১ এপ্রিল থেকে আমদানির ওপর খানিকটা নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন এবং বাস্তব পরিদর্শনসহ শুল্কারোপ কার্যক্রম যাচাইয়ের পরিকল্পনা পুনর্বহাল করেছেন, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সানডে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্রস্ট আবারও ব্রিটেন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ব্রেক্সিট-উত্তর বাণিজ্য সহজ করার জন্য ব্রিটেনের একতরফা পদক্ষেপের পক্ষে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে এটা করা হলে ইইউ ব্রেক্সিট চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে ব্রিটেনের বিপক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

ব্রিটেন গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার পর থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা বৃদ্ধি পেতে থাকে। উভয় পক্ষই উত্তর আয়ারল্যান্ডে পণ্য সরবরাহের বিষয়ে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন বিষয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে।

ইইউ ব্লকের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সুরক্ষার জন্য ব্রিটেনের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী ফ্রস্টকে এ বছরের শুরুর দিকে ইইউর সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ দেশের পক্ষে ফ্রস্ট দৃঢ় অবস্থান নেয়ার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে থাকেন বলে ইইউ মনে করছে।

এ বিষয়ে ইইউর বক্তব্য হলো, বাণিজ্য বিষয়ে লন্ডন ইইউর সঙ্গে যে চুক্তি সম্পাদন করেছিল, তার প্রতি তাদের সম্মান জানানো উচিত। এ চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে অঙ্গীকার করেছিল ইইউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রপ্তানিকারকরা নতুন নিয়ম, বিধি এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী অনুশাসনের অধীনে আরোপিত পরিচালন ব্যয়ের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে করে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এবং হোয়াইট হলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন আশঙ্কা করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব রপ্তানিকারক খাদ্য রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত, এ বছর তারা যুক্তরাজ্যে পণ্য পাঠানোর বিষয়ে তুলনামূলক কম প্রস্তুত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..