বিশ্ব সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় ফের সংক্রমণ তিন লাখ মানুষ লকডাউনে

শেয়ার বিজ ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের উত্তরের শহরতলীতে গতকাল থেকে নতুন করে আরও তিন লাখের বেশি মানুষকে লকডাউন করে রাখা হচ্ছে। অথচ দেশটিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে সফল হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। নিয়ন্ত্রণে এসেছিলও বটে, তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশটির দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল রাজ্যটিতে ফের প্রতিদিন আশঙ্কাজনক হারে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় এ পদক্ষেপ। খবর: বিবিসি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনা মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া বেশ সফল বলেই বিবেচিত হচ্ছিল। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর মোট সাত হাজার ৯২০ জন কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত রোগীর বেশিরভাগ সুস্থ। সক্রিয় কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা এখন ৪০০ এর কম। আর মারা গেছে ১০৪ জন। তবে ফের শনাক্ত রোগী বাড়তে থাকায় দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের ৩০টির বেশি এলাকায় তৃতীয় ধাপের লকডাউন নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। মহামারি করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য লকডাউনের তিনটি সর্বোচ্চ কঠোর ধাপের মধ্যে এটি একটি। এর অর্থ হলো এখন মুদি দোকানে কেনাকাটা, চিকিৎসাসেবা, কর্মস্থলে যাওয়া এবং সীমিত আকারে শরীরচর্চা ছাড়া এসব মানুষ এখন ঘরবন্দি থাকবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের যে পদক্ষেপের আওতায় এ লকডাউন এলাকাগুলোয় এর পরিধি আরও বাড়তে পারে। এছাড়া যেসব এলাকায় এ লকডাউন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেসব এলাকার সীমানায় সেনা টহলদারি করা হবে। সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া রাজ্যে রেস্তোরাঁ, জিমনেশিয়াম এবং সিনেমা খুলে দেওয়ার পরই ফের সংক্রমণ বাড়ছে।

গত মঙ্গলবার ভিক্টোরিয়ায় রাজ্যজুড়ে ২০ হাজার ৬৬৮ জনের করোনা পরীক্ষার পর ৭৩ জন কভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। সোমবার এ সংখ্যাটা ছিল ৭৫ জন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল অ্যান্ড্র–স বুধবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, করোনার বিস্তার রোধে নতুন করে আবার সীমান্ত বন্ধ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ?‘পুরো মেলবোর্ন নগরের বাসিন্দারা আমরা যদি আগামী চার সপ্তাহ সবাই ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে আমরা ভাইরাসটির গোষ্ঠী সংক্রমণ (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি। রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা পল কেলি বলেছেন, ‘ফের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও সেসব সংক্রমণের ঘটনা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’

দুদিন আগে বেইজিংয়ের পাশেই অন্তত চার লাখ মানুষকে নতুন করে লকডাউনে রেখেছে চীন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা নতুনভাবে বেড়ে যাওয়ার জেরে দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ ঠেকাতেই এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..