শেয়ার বিজ ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে বন্দুক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে। খবর রয়টার্স।
দেশটির সম্প্রচার মাধ্যম এবিসি নিউজকে পুলিশ বলেছে, সন্ধ্যায় বন্ডি সমুদ্রসৈকতে গোলাগুলির ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন হামলাকারী এবং বাকি নয়জন ভুক্তভোগী।
এই ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গোলাগুলির খবর শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো একাধিক পুলিশ সদস্যও আছেন। এছাড়া আহতদের মধ্যে দ্বিতীয় একজন হামলাকারীও রয়েছেন। ওই হামলাকারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউ সাউথ ওয়েলস অ্যাম্বুলেন্সের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, গোলাগুলির পর ঘটনাস্থল থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং তারা মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করছেন।
এবিসি নিউজে সম্প্রচারিত ফুটেজে মাটিতে একাধিক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেশটির সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে ৩০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা হ্যারি উইলসন বলেন, আমি অন্তত ১০ জনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছি, চারদিকে রক্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেছেন, হনুকা উৎসবের প্রথম মোমবাতি জ্বালাতে সমুদ্রসৈকতে যাওয়া ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর সন্ত্রাসীরা জঘন্য হামলা চালিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত সমুদ্রসৈকতগুলোর একটি বন্ডি। সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যার দিকে এই সৈকতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে ১৯৯৬ সালে পোর্ট আর্থার হামলার পরে গতকালের ঘটনাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলা।
১৯৯৬ সালে, তাসমানিয়ার একটি পর্যটন স্থানে এক বন্দুকধারীর হামলায় ৩৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। ওই হামলাটি ছিল দেশটির আইনশৃঙ্খলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার সরকার বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন চালু করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে দেশটিতে বন্দুক হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
এরপর থেকে দেশটিতে যে কয়েকটি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তার বেশির ভাগই পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ ঘটনা, আজকের মতো পাবলিক প্লেসে হামলা নয়। ফলে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের কাছে আজকের ঘটনাটি অপরিচিত ও বিধ্বংসী এক ধাক্কা।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post