সারা বাংলা

অস্তিত্বহীন চালকল থেকে চাল সংগ্রহের অভিযোগ

লালমনিরহাট খাদ্যগুদাম

প্রতিনিধি, লালমনিরহাট:চলতি বোরো মৌসুমে অস্তিত্বহীন চাতাল ও চালকল থেকে চাল সংগ্রহের অভিযোগ করেছেন লালমনিরহাটের মিল চাতাল মালিকরা। তারা বলছেন, যে সব মিল চাতালের কোনো অস্তিত্ব নেই তাদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায় ১৪৪টি মিল চাতাল লালমনিরহাট সদর উপজেলায় সচল আছে এমন একটি তালিকায় স্বাক্ষর করেন। সে তালিকার কাগজে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব আলী ও উপজেলা রাইচ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলীর স্বাক্ষরও রয়েছে। এ তালিকার প্রেক্ষিতে মিল চাতাল মালিকরা সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চুক্তি করেন এবং চলতি বোরো মৌসুমে চালের বরাদ্দ পান।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই মাসে মিল চাতালগুলোর অনিয়মের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয় একটি তদন্ত কমিটি। তদন্তে মিলে ব্যাপক অনিয়ম। কিন্তু অনিয়মের সঙ্গে জড়িত মিল চাতাল মালিক ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি আইনগত ব্যবস্থা। এমনকি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত চাতাল মালিকরা খাদ্য গুদামে চাল দেওয়ার সুযোগ পেলেও নতুন সচল মিলগুলো সরকারিভাবে বরাদ্দ পেয়ে খাদ্য গুদামে চাল দিতে পারছে না এমন অভিযোগ তুলেছেন একাধিক মিল চাতাল মালিকরা।
এ ব্যাপারে মেসার্স হাবিবা এন্টারপ্রাইজের মালিক হায়দার আলী জানান, সরকারি নিয়মনীতি মেনে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করার পর বরাদ্দ পেয়েছি। অথচ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে চাল দিতে পারছি না।
এ ব্যাপারে মেসার্স তালহা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু সাঈদ, মেসার্স মোহনা এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমান ও মেসার্স আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক পশর আলী জানান, তারা সরকারের চুক্তি করে বরাদ্দ পাওয়ার পরেও তাদের চাল খাদ্য গুদামে দিতে দেয়া হচ্ছে না। অথচ যে সব মিল চাতালের কোনো অস্তিত্ব নেই তাদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর এলএসডির খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ১১৩টি মিল চাতালের নিকট থেকে চাল ক্রয় করেছেন।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় জানান, তার চাকরির নীতিমালা অনুযায়ী তিনি মিডিয়ার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না। তাই এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি নন।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, মিল চাতালগুলোর অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্ত করে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ১৪৩টি মিলের মধ্যে ৪৬টি মিলের ত্রুটি পাওয়ায় ওই সব মিলের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। তদন্তে মোট ৯৭টি সচল মিল পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ..