প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

অস্তিত্ব হারানোর শঙ্কা: লোকসানেও বাড়ছে ইমাম বাটনের শেয়ারদর

নাজমুল ইসলাম ফারুক: বেশ কিছুদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক ধারা বিরাজ করছে। এ বাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদরেও উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরির লোকসানি প্রতিষ্ঠান ‘ইমাম বাটন’-এর শেয়ারদরও বাড়ছে। কোম্পানিটির নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ‘রহমান ঠাকুর অ্যান্ড কোং’-এর তথ্যমতে, কর্তৃপক্ষ যদি অবকাঠামোগত অবস্থার উন্নতি ও আর্থিক সমস্যার সমাধান না করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে ইমাম বাটনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোম্পানির সার্বিক অবস্থার চিত্র ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানো হয়েছে। তবুও কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েই চলেছে।

গত জুন ২০১৬ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৬৯ লাখ ৮২ হাজার ১৭ টাকা। কোম্পানিটি মোট উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ২৩ শতাংশ কাজে লাগাতে সক্ষম। ভাঙা মেশিন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কোম্পানিটি পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে নতুন ক্রেতা খুঁজতেও ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব কারণে লোকসানের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

কোম্পানির বিষয়ে জানতে চাইলে ইমাম বাটনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নুরুদ্দীন জঙ্গী বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। কোনো ধরনের সমস্যা নেই। তবে মেশিনারি পুরোনো ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার যখন স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যায়, ঠিক তখনই দুর্বল কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কিছু চক্র মেতে ওঠে। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ারদর কেন হঠাৎ বাড়ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত সে বিষয়টি খতিয়ে সঠিক কারণ নির্ণয় করা। সে সঙ্গে এতে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে সচেতনতা বাড়ানো উচিত। তবে বিনিয়োগকারীদেরও হুজুগে কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর তাতে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন তারা।

এ সম্পর্কে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে আগের চেয়ে স্বাভাবিক গতি বিরাজ করছে। বাজারে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও। আর এ মুহূর্তে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হুজুগে কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।’ বুঝে-শুনে ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।

কোম্পানির শেয়ারদর বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৪ ডিসেম্বর কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা। ১১ ডিসেম্বর কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৪০ পয়সা। মোট ছয় কার্যদিবসের মধ্যে দুদিনই কমেছে শেয়ারদর। এছাড়া চার কার্যদিবসে বেড়েছে দুই টাকা ৩০ পয়সা। অথচ এর মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ার কারণ খুঁজতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। কমিটি গঠন করার পরও বাড়ছে কোম্পানিটির শেয়ারদর।

কোম্পানির লভ্যাংশ ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১১ সাল থেকে গত সমাপ্ত বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারেনি ইমাম বাটন। এতে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৫৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ শেয়ার।

কোম্পানিটি ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটি সুশাসন পরিপালনে ব্যর্থ হয়ে, দিন দিন লোকসান বাড়ায়, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।

 

সর্বশেষ..