দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য গতকাল দিন ধার্য করেন আদালত। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এরপর গত ১৫ জুলাই র‌্যাব সাহেদকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করার কথা জানায়। তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। গ্রেপ্তারের পরই তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

‘রায়ে আমি ন্যায়বিচার পাইনি। আমি উচ্চ আদালতে যাব। আপিলে ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করি।’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়ার পর এ কথা বলেছেন রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ। রায় ঘোষণা শেষে আদালত থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে উঠতে উঠতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন।

এদিকে আদালত রায়ের সময় পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ‘আমার কাছে খুবই আশ্চর্যের বিষয় হলো, মামলাটি  চলার সময়ে সাহেদ আদালতকে বলেন, এই গাড়ি আমার না, এই গাড়ি আমি চিনি না। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারলাম ২০ লাখ টাকা কিস্তিতে গাড়িটি কিনেছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে একবারের জন্যও তার আইনজীবীরা কথা বলেন না। এটা খুবই অবাক করার কথা। তাই জানা সত্ত্বেও আদালতের কাছে সাহেদের মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও অস্ত্র গাড়িতে রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হাওয়ায় সে কোনো অনুকম্পা পেতে পারে না।’

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, ‘আমাদের এ সমাজে সাহেদের মতো আরও ভদ্রবেশী লোক রয়েছে। এ মামলার রায় তাদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।’

গত ১৯ জুলাই সাহেদকে নিয়ে তার উত্তরার বাসার সামনে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখানে তার নিজস্ব সাদা প্রাইভেটকারে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, একটি পিস্তল এবং একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করা হয়। এরপর গত ৩০ জুলাই অস্ত্র আইনে মামলায় ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শায়রুল আসামি সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

মো. সাহেদ এ মামলায় ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলার এটিই হলো প্রথম রায়। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে সাহেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। মামলায় সাহেদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..