প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি: দুর্বল মৌলভিত্তির আট কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুর্বল মৌলভিত্তির আট কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি থামাতে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ইতোমধ্যে এসব কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ তদন্তের প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানটির এনফোর্সড বিভাগে জামা পড়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো রহিমা ফুড, ফাইন ফুড লিমিটেড, বিডি অটোকারস, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, জিলবাংলা সুগার মিলস, ইমাম বাটন ও শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিএসইসির ৫৯২তম কমিশন সভায় এ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

মৌলভিত্তি যাচাই করে দেখা যায়, এসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল। এর মধ্যে ফাইন ফুড ও বিডি অটোকারস ‘বি’ ক্যাটাগরির আর বাকি ছয়টি ‘জেড’ ক্যাটাগরির। বর্তমানে অধিকাংশ কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। বছরের পর বছর এসব কোম্পানি থেকে কোনো ধরনের লভ্যাংশ পাচ্ছেন না শেয়ারহোল্ডাররা। অথচ এসব শেয়ারের দর মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বিএসইসি কোম্পানিগুলোর কাছে দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের কাছে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য নেই।

জানা যায়, রহিমা ফুড ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে মো. গোলাম কিবরিয়া, উপপরিচালক এবং মোহাম্মদ রাকিবুল রহমান, সহকারী পরিচালককে নিয়ে দুই সদ্যস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের শিগগির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে আদেশও দেওয়া হয়।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগ বিচারিক কার্যক্রম শুরু করবে। কোম্পানিগুলো যদি কোনো আইন লঙ্ঘন করে দর বাড়ায় তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আইন লঙ্ঘন না করলে তাদের দায়মুুক্তি দেওয়া হবে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটি গঠনের আগে এক মাসে রহিমা ফুডের শেয়ারদর ৫১ টাকা থেকে ১৬৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। একইভাবে ফাইন ফুডসের শেয়ারদর ৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৬৩ শতাংশ বেড়ে ২৪ টাকা ২০ পয়সা; বিডি অটোকারের ৪৩ টাকা থেকে ১০৭ শতাংশ বেড়ে ৮৯ টাকা; মেঘনা পেইটি ইন্ডাস্ট্রিজের পাঁচ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১১৮ শতাংশ বেড়ে ১১ টাকা ১০ পয়সা, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ছয় টাকা থেকে ১১৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ টাকা; জিলবাংলা সুগার ১৬ টাকা থেকে ১৮১ শতাংশ বেড়ে ৪৫ টাকা, ইমাম বাটন ১১ টাকা থেকে ৮০ শতাংশ বেড়ে ১৯ টাকা ৯০ পয়সা এবং শ্যামপুর সুগার মিলস ১১ টাকা থেকে ১৫২ শতাংশ বেড়ে ২৮ টাকা ৬০ হয়।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে রহিমা ফুডের শেয়ারপ্রতি লোকসান ২৬ পয়সা, মেঘনা পেইটি ইন্ডাস্ট্রিজের লোকসান ১৯ পয়সা, মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের এক টাকা ৩৮ পয়সা, জিলবাংলা সুগারের ২৪ টাকা ১ পয়সা, ইমাম বাটনের লোকসান ৫৫ পয়সা এবং শ্যামপুর সুগারের লোকসান ৩৪ টাকা ৯৯ পয়সা। তবে ফাইন ফুডসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৪১ পয়সা এবং বিডি অটোকারের ইপিএস ১৪ পয়সা। অর্থাৎ এ কোম্পানি দুটি মুনাফায় রয়েছে।