প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি: দৌরাত্ম্য কমছে না তিন কোম্পানির

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছিল সাত কোম্পানির শেয়ারের দর। এ কারণে সম্প্রতি সাত কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরপরও এসব কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি থেমে নেই। গতকাল রোববার বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি মন্দা থাকায় এর মধ্যে চারটি কোম্পানির শেয়ারের দর কিছুটা কমলেও বেড়েছে অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। এ প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ফাইন ফুডস, বিডি অটোকারস ও ইমাম বাটন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিএসইসি তদন্ত কমিটি গঠনের পর তিন কার্যদিবসের ব্যবধানে ফাইন ফুডসের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে এক টাকা ৩০ পয়সা। তিন কার্যদিবস আগে এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার কেনাবেচা হয় ২২ টাকা ২০ পয়সায়, গতকাল যার প্রতিটি শেয়ার বিক্রি হয় ২৩ টাকা ৫০ পয়সায়। একই সময়ের মধ্যে বিডি অটোকাসের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে সাত টাকা ১০ পয়সা। বিএসইসির কমিটি গঠনের দিন এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার হাতবদল হয় ৭৮ টাকা ৬০ পয়সায়। গতকাল যা লেনদেন হয় ৮৫ টাকা ৭০ পয়সায়। আর এ সময়ের মধ্যে ইমাম বাটনের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে ৭০ পয়সা করে। ৬ ডিসেম্বর এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয় ১২ টাকা ৭০ পয়সা। সর্বশেষ শেয়ার লেনদেন হয় ১৩ টাকা ৪০ পয়সায়।

বিএসইসি যে কোম্পানিগুলোর তদন্ত নিয়ে কাজ করছে তার মধ্যে রয়েছে মেঘনা পেইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ, জিলবাংলা সুগার মিলস ও শ্যামপুর সুগার মিল।

কথা হয় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শেয়ারের দর বৃদ্ধির পেছনে একটি মহল সক্রিয়। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদেরই সজাগ থাকতে হবে।’ একই সঙ্গে তদন্তের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকেও আরও আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন এই বিশ্লেষক।

বর্তমানে এর বেশিরভাগ কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ। শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতেও ব্যর্থ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নজর এডায়নি বিএসইসির। যে কারণে তারা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিশন জানায়, ‘জেড’ ক্যাটাগরির যেসব কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) নেতিবাচক, সেগুলোরও অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কোম্পানি তদন্ত করবে বিএসইসির দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল। কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির সহকারী পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া ও মোহাম্মদ রকিবুর রহমান।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমানের সঙ্গে। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, ‘অস্বাভাবিকভাবে শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সময় ও জনবলের অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে না।’

সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে রহিমা ফুড, ইমাম বাটন, বিডি অটোকার, মেঘনা পেইটি ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শ্যামপুর সুগার ও জিলবাংলা সুগার মিলস বহু বছর লোকসানে। তারপরও অজ্ঞাত কারণে দর বাড়ার শীর্ষে রয়েছে এসব কোম্পানি।

এর আগে একই কারণ দেখিয়ে রহিমা ফুড করপোরেশনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয়, যার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বিএসইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। রহিমা ফুড করপোরেশনের পরিচালকদের শেয়ার বিক্রিসংক্রান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য দুদিন পর ডিএসইতে প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে রহিমা ফুড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সঠিক সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তথ্য দিয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই বলেছে, সঠিক সময়ে তথ্য পায়নি। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য সম্পর্কে দুই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি।

সম্প্রতি কোনো কারণ ছাড়াই এসব কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ফাইন ফুডের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে চার টাকা ২০ পয়সা। অন্যদিকে একই সময়ের মধ্যে বিডি অটোকারসের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে মেঘনা পেইটির শেয়ারের দর এক টাকা ৫০ পসয়া, মেঘনা কন্ডেসমিল্কের শেয়ার এক টাকা ৫০ পয়সা ও জিলবাংলা সুগারের প্রতিটি শেয়ারের দর বাড়ে প্রায় ১৪ টাকা। অন্যদিকে ১০ দিনের ব্যবধানে শ্যামপর সুগারের প্রতিটি শেয়ারের দর বাড়ে ছয় টাকা ৩০ পয়সা। এতে টনক নড়ে বিএসইসির।

সর্বশেষ..