সম্পাদকীয়

অস্বাভাবিক ব্যয়ে রেলের কোচ মেরামত কাম্য নয়

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে ‘উন্নয়নশীল’ হিসেবে বিবেচিত হতে চলেছে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা হারানো, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য শর্ত কঠিন হওয়া, দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসা-বাণিজ্যে অবাধ নীতিস্বাধীনতা হ্রাস এবং আইনকানুন যাথাযথ প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতাসহ বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ২০২৬ সালে আমরা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবো। প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকে যেন ২০২৬ সালে এসে সরকার ও জনগণকে বিব্রত না হতে হয়। পাঁচ বছর চলে যাবে দেখতে দেখতেই।

উন্নয়নশীল হলে প্রথমেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে। অন্যের সহায়তার অপক্ষো না করে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়নকাজ করতে হবে। জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ মিলবে না। এছাড়া সুদের হার বাড়লে বিদেশি ঋণে খরচ বাড়বে। তাই  অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী করতে হবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষেরও ভাবনা আছে। ওই ভারী বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলেও তাদের কিছু ভাবনা আছে, যেগুলোকে কম গুরুত্বপূর্ণ বলার সুযোগ নেই। যেমন অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করা গেলে প্রতি বছর রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা অপচয় বা লোপাট হতো না।

আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। এমনও শোনা যায়, দুর্নীতি কমানো গেলে পদ্মা সেতুর মতো একাধিক মেগা প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন সম্ভব। আর রেলপথ নির্মাণে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ হিসেবে ‘খ্যাতি’ রয়েছে বাংলাদেশের। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয়ের বড় ব্যবধান থাকায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বছর কয়েক আগে। ওই সময় বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর রেলপথ নির্মাণব্যয়ের তুলনা করা হয়। তখন জানা গেছে, উন্নত দেশগুলোয় প্রতি কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে গড় ব্যয় হচ্ছে ৩১ কোটি টাকা। আমাদের দেশে সর্বশেষ ঢাকা-পায়রা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সামগ্রিক উন্নয়নে রেলপথের অবদান বিবেচনায় হয়তো বেশি ব্যয় গ্রহণযোগ্য। অথচ নির্মাণ-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকাই সামনে এসেছে। গতকালও শেয়ার বিজের একটি প্রতিবেদনে হতাশ হবেন সাধারণ মানুষÑঅস্বাভাবিক বেশি ব্যয়ে রেলের ১০০ কোচ মেরামত প্রকল্প। এতে বলা হয়, ব্রডগেজ কোচের মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশে ব্যয় বেশি হবে ৩৯ শতাংশ ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রাংশে ৬৮৮ শতাংশ। আর মিটারগেজ কোচের মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশে বেশি ব্যয় হবে ২০ শতাংশ ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রাংশে ৩৭৭ শতাংশ। সবচেয়ে আজব বিষয় হলো, যাত্রীবাহী এ ১০০ কোচ অকেজো ও অব্যবহƒত। এসব কোচ মেরামতে ব্যয় সমজাতীয় অন্যান্য প্রকল্পের চেয়ে অনেক বেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে উন্নয়নশীল দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যয়, অপচয়, কমিয়ে আনাও প্রয়োজন। কেনায় অতিরিক্ত ব্যয়, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণেও ফি বছর রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরঞ্জাম তৈরির জন্য কারখানা স্থাপন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..