পাঠকের চিঠি

অস্বাভাবিক ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে

পাঠকের চিঠি

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের অনেক সাফল্য রয়েছে। তবে এ খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় তা অনেকটাই ম্লান করে দেয়। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকারের বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার একদিকে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করছে, অন্যদিকে বেশি দামে কিনছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ আবার ভোক্তার কাছে সরকার বিক্রি করছে অর্ধেকেরও কম মূল্যে। এভাবে কেনাবেচার মধ্য দিয়ে বছরে মোটা অঙ্কের অর্থ গচ্চা দিচ্ছে সরকার। ভাড়া ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে রাষ্ট্রীয় অর্থ লোকসান হচ্ছে বলেই অভিযোগ। বিদ্যুৎ সংকট মেটাতেই এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হয়েছিল, এটা সবারই জানা। জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এসব কেন্দ্র বিদ্যুৎ সংকট মিটিয়েছে অনেকখানি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতেও কিছুটা সহায়ক হয়েছে; কিন্তু এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে দিতে হচ্ছে বড় মূল্য।
বেসরকারি খাতে এত লোকসান ও ভর্তুকি জোগানোর পরও সাধারণ মানুষের ভরসার স্থল সরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেখানে জনগণের অর্থের অপব্যবহার হবে না। কিন্তু এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরও বেশি, হতাশা গভীর।
আধুনিক যুগে বিভিন্ন জ্বালানির সহজলভ্যতার কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বরং কমার কথা। আর আমাদের দেশে এর ব্যয় বাড়ছে এবং এ খাতে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জ্বালানি তেলের (ফার্নেস অয়েল) দাম কমায় বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় অবশ্য কমতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে পিডিবির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় জ্বালানি হিসেবে কেন ডিজেল ব্যবহার করা হবে, সে প্রশ্নও উঠতে পারে।
সরকারের নীতি হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে ভর্তুকি পুরো তুলে নেওয়া। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ই যদি ইউনিটপ্রতি ২৮ থেকে ৪২ টাকা হয়, সেক্ষেত্রে কীভাবে ভর্তুকি প্রত্যাহার হবে? নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেমন সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ুপ্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈবশক্তি (বায়োগ্যাস, বায়োম্যাস, বায়োফুয়েল) প্রভৃতি ব্যবহার করা যায়, এমন বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপে যেসব এলাকাকে জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার আওতায় আনা সত্যি ব্যয়বহুল। নবায়নযোগ্য এসব জ্বালানি ব্যবহারের পর নিঃশেষ হয়ে যায় না। বিশ্বের অনেক দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য এসব শক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। আর এতে বেশ পিছিয়ে আছি আমরা।
সরকারি হোক আর বেসরকারি, সব ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। এক্ষেত্রে কালক্ষেপণে জনগণের অর্থের অপব্যবহার তথা প্রতিবছর রাষ্ট্রের বিপুল গচ্চা চলতেই থাকবে।

আবদুল মতিন
ইপিজেড, চট্টগ্রাম

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..