সম্পাদকীয়

অ্যাকশন প্ল্যান বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা হোক

পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও অফুরন্ত সম্ভাবনা থাকায় বিশ্বব্যাপী বাড়ছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিত্র খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। গ্যাসসহ জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে আমাদের। তুলনামূলক কম বিনিয়োগে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পরিবেশবান্ধব এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলো সর্বোত্তম বিকল্প।

বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি। এটির গুরুত্ব অনুধাবন করে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে জ্বালানি সাশ্রয়, সংরক্ষণ ও দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় রোধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) গঠন করে সরকার। স্রেডা’র লক্ষ্য হলো টেকসই জ্বালানিকে উন্নত করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি জ্বালানি সচেতন জাতি গড়া। এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে জ্বালানি সাশ্রয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের জন্য বছরওয়ারি লক্ষ্য নির্ধারণ করা, বাজারে সহজলভ্য পণ্যের মান নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি কার্যকর পণ্য মানোপযোগী করতে হবে।

জ্বালানি সচেতন জাতি গড়া এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানকে অপরিহার্য করে তুলতে হবে। কিন্তু গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌরবিদ্যুৎ অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে স্রেডা লুকোচুরি করছে। তিন মাস আগে অ্যাকশন প্ল্যান চূড়ান্ত হলেও তা প্রকাশ করেনি স্রেডা।

স্রেডা প্রণীত অ্যাকশন প্ল্যান গত আগস্টে চূড়ান্ত হলেও তা অপ্রকাশিত। তবে কি কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে এবং বিদ্যুৎ খাতের মাস্টারপ্ল্যানে সৌরবিদ্যুতের অংশ কমিয়ে দেখাতে প্রতিবেদনটিতে ‘কাটছাঁট’ করার অভিযোগ সত্য!

সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সর্বব্যাপী উদ্যোগ। স্রেডার অবস্থানকে জনবান্ধব বলা যায় না, সর্বব্যাপী উদ্যোগ তো নয়ই। সৌরবিদ্যুৎ শুধু ক্ষেতে পানি সেচ, গৃহস্থালি প্রভৃতি কাজে ব্যবহারোপযোগী, তা নয়। এটি এখন বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন লাইনেও যোগ হয়। অথচ ‘আগামী ২০ বছরে ৩০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের’ কথা বললেও এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে লুকোচুরি করছে স্রেডা। তবে লক্ষ্য অর্জন নিয়ে স্রেডা’র কর্তাব্যক্তিদের কোনো সংশয় আছে?

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নত দেশগুলো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। কার্বন নিঃসরণসহ বিভিন্ন কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। তাই মানুষের জন্য যথাসম্ভব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করতে হবে। এটি রাষ্ট্রীয় গোপনীয় কোনো বিষয় নয়। ডিজেলচালিত তাপবিদ্যুৎ, ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক প্রভৃতি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতি বছর রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। এখন ভরসা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ। এখানে যেন কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সংঘটিত না হয়। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হলে সৌরবিদ্যুৎ অ্যাকশন প্ল্যান বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা হবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..