সম্পাদকীয়

অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ব্যবহার বন্ধ হোক

অ্যান্টিবায়োটিক জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। জটিল রোগের ক্ষেত্রেই তা মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু অহরহ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হলে তা মানব দেহে কার্যকারিতা হারায়। এমন পরিস্থিতিতে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক সহনশীলতা। কোনো ব্যক্তির শরীর যদি অ্যান্টিবায়োটিক সহনশীল হয়ে পড়ে তা পরবর্তীতে তার শরীরে কোনো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকটি অকার্যকর হয়ে পড়ে বলেই বিশেষজ্ঞ মত। কাজেই অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে আনার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে সরকার আশু পদক্ষেপ নেবে বলেই বিশ্বাস।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘আলোচনা সভায় বক্তারা: অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ব্যবহার বন্ধের তাগিদ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মানুষ এখন নিজের অজান্তেই নানা ধরনের খাবারের সঙ্গে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছে। কাজেই কোনো ব্যক্তি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করলেও নানাভাবে তার শরীরে এটি প্রবেশ করছে। কারণ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটানোর জন্য যেসব আধুনিক খামার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাতে যত্রতত্র ব্যবহার করা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। বিশেষ করে মুরগির খামার ও গরুর খামারে। মুরগি ও গরুর রোগ-বালাই দমনে হরহামেশা ব্যবহার করা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। ফলে সে অ্যান্টিবায়োটিক মিশে যাচ্ছে এসব পশু-পাখির মাংস, দুধ ও ডিমে। এগুলোই প্রতিনিয়ত বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যা আমরা নিয়মিত ভক্ষণ করছি। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে বলেই প্রতীয়মান। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমনটিও জানা যাচ্ছে যে, এরই মধ্যে অনেক অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের শরীরে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমানে সংরক্ষিত (রিজার্ভ) যেসব অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, সেগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে। এগুলোও যদি অকার্যকর হয়ে পড়ে তাহলে জীবন রক্ষায় বাজারে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যাবে না। তাই রিজার্ভ অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের এ বক্তব্য অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে করি। তবে শুধু বিশেষজ্ঞরা নয়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেও অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের নিদের্শও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

সর্বোপরি বাজারে অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র বিক্রি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত যাতে কোনো ফার্মেসি অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রাণীদেহে হরহামেশা অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রাণীদেহে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ বিষয়ে দক্ষ জনবল সৃষ্টি একান্ত আবশ্যক। একটি সুস্থ-সবল জাতি গঠনে সরকারকে অবশ্যই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগে শৃঙ্খলা আনতে উদ্যোগ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট মহল এ বিষয়ে ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..