Print Date & Time : 2 July 2022 Saturday 11:40 am

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতা প্রতিরোধে আর্ক ফাউন্ডেশনের কোস্টার প্রকল্পের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০১৯ সালে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতাকে দায়ী করা হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়া হলে ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় এক কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতা প্রতিরোধে এবং গ্রামীণ অঞ্চলে কমিউনিটির মানুষদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশে আর্ক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে Community Solutions To Antimicrobial Resistance-COSTAR প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। 

রোববার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৭ টায় অনলাইন প্লাটফর্মে এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের সাথে আরও যুক্ত রয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ), ম্যালেরিয়া কনসোর্টিয়াম, ইউনিভার্সিটি অফ লিভারপুল, ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টার্ন, অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ রিসার্চ ফান্ড প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে।

আর্ক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার জনস্বাস্থ্য এবং প্রাণীস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতার ফলে জনজীবনে চিকিৎসা ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এখনই যদি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতার লাগাম টেনে ধরা না হয়, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপিতে ৭৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই কোস্টার প্রকল্পের অধীনে কমিউনিটি ডায়লগ পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষকে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে সচেতন করে তোলার  উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান গবেষক এবং যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেবেকা কিং প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেন, বর্তমানে এইচআইভি-এইডস এবং ম্যালেরিয়া থেকেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতার কারণে মানুষের মৃত্যু বেশি হচ্ছে। তাই বিশ্বব্যাপী নতুন ওষুধ, কার্যকরী ডায়াগনস্টিক এবং ভ্যাক্সিনের উন্নয়নের উপর জোর আরোপ করা দরকার। পাশাপাশি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতা প্রতিরোধে কার্যকরী নজরদারী ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ব্যাপারে সুপারিশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আশাদুল ইসলাম বলেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতাকে (Antimicrobial Resistance-AMR) বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতা রোধের জন্যে সামষ্টিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তঃবিভাগীয় প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IEDCR) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অকার্যকারিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোভিড পরবর্তী সময়ে দেশে এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গিয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতা প্রতিরোধে দেশের হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধ নীতিমালা শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল ফয়েজ বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সম্পর্কে  মানুষের ধারণা এখনো অনেক কম। সাধারণ মানুষকে এই ব্যাপারে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। তাই কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করা যেতে পারে।

সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বাংলাদেশের বর্তমান অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অকার্যকারিতা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সমস্যা মোকাবেলায় শুধুমাত্র স্বাস্থ্যখাতকেই এগিয়ে আসলেই হবেনা, একই সাথে দেশের অন্যান্য খাতকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান, ফ্লেমিং ফান্ডের কান্ট্রি লিড ডা. নীতিশ দেবনাথ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ফ্লেমিং ফান্ডের  সাবেক পরিচালক ডা. খালেদা ইসলাম, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. আমাম জোনায়েদ সিদ্দিকী এবং আর্ক ফাউন্ডেশনের গবেষণা সহযোগী ডা. ফারিজা ফিরোজ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ, জনস্বাস্থ্যবিদ, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, উন্নয়ন কর্মী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন।