অ্যালাইড ডায়াগনস্টিকের বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরব গমনেচ্ছু ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ মেডিকেল টেস্ট করাতে গেলে তাকে ভুল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে অ্যালাইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেডের বিরুদ্ধে। রাজধানীর প্রগতি সরণি এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষার রিপোর্টে জানানো হয় তার এইচআইভি পজিটিভ। এ রিপোর্টে সন্দেহ পোষণ করে ওই তরুণের বাবা-মা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও আইসিডিডিআর,বিতে পরীক্ষা করালে সেখানে এইচআইভি নেগেটিভ আসে। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের শরণাপন্ন হয়েছেন তরুণটির বাবা-মা।

গতকাল বুধবার বিকালে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আসেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি বলেন, ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ সৌদি যেতে চেয়েছিল। কিন্তু সৌদিতে যাওয়ার আগে কিছু মেডিকেল টেস্ট করতে হয়। সৌদি অ্যাম্বাসি অনুমোদিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি অ্যালাইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড। সেখানে ওই তরুণের মেডিকেল টেস্ট করা হলে তার এইচআইভি হয়েছে বলে জানানো হয়। সেই রিপোর্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সৌদি অ্যাম্বাসিতে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয় এ তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ।

তরুণের বাবা-মা এ খবর শুনে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে বিএসএমএমইউ ও আইসিডিডিআর,বিতে পরীক্ষা করান। সেখানে দুটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টেই এইচআইভি নেগেটিভ (এইচআইভি হয়নি) দেখায়। তার এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই বলে জানানো হয়েছে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, অ্যালাইড ডায়াগনস্টিকের কারণে এ ছেলেটি আজ সমাজে নানা সমস্যায় জর্জর। এখন কোথায় যাবে? সামাজিকভাবে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে তার এইচআইভি পজিটিভ। সমাজে নানা ধরনের ঝুঁকির শিকার হচ্ছে এ তরুণ। তার বেঁচে থাকাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সেই তরুণের বাবা-মা এসেছেন আমার কাছে।

ওই তরুণের মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কয়েকবার আত্মহত্যা করতে যায়। আমার ছেলে আর বাঁচতে চায় না। মিথ্যা অপবাদ, মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে আমার ছেলেটার জীবন ধ্বংস করেছে। এত বড় একটি সিদ্ধান্ত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভালো করে শিওর না হয়ে কেন সব জায়গায় দিল? এর বিচার এখন কী হবে? আমার ছেলের কী হবে? এর দায় কে নেবে?’

তার মা আরও বলেন, ‘আমরা পিজিতে (বিএসএমএমইউ) ও আইসিডিডিআর,বির রিপোর্ট নিয়ে অ্যালাইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে আমরা যখন বললাম, আমরা তো ছেলের পরীক্ষা করিয়েছি, সেখানে তো খারাপ রিপোর্ট আসেনি। সেখানে তো রিপোর্ট ভালো এসেছে। কী কারণে আপনারা এ ভুল সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়সহ সৌদি অ্যাম্বাসিতে জানালেন ভালো করে না জেনে। আমাদের তো ডাকতে পারতেন, দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করতে পারতেন। এত বড় একটি সিদ্ধান্ত দিলেন। পরে আবার আমার ছেলের রক্ত নিয়েছে পরীক্ষা করার জন্য, ৮ সেপ্টেম্বর রক্ত নিয়েছে। রক্ত নিয়ে বলল, আপনারা চলে যান, আপনাদের কাল জানাব। পরে আমাদের আর রিপোর্ট দেয়নি। পরে আমাদের বলে, আপনারা তো এটি নিয়ে অনেক হয়রানি হয়েছেন। আমরা আপনাদের কিছু টাকা দিয়ে দেব, এটি কাউকে জানানোর দরকার নেই।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, অ্যালাইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এই রিপোর্ট না দেয়ার কারণ হচ্ছে, এটি যদি সৌদি অ্যাম্বাসি জানতে পারে তাহলে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেবে। এ কারণে তারা অল্প কিছু টাকার মাধ্যমে এটিকে ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সবাইকে বলব, একটি জীবনের মূল্য দিতে শিখুন। এভাবে একটি ভুলের কারণে একটি ছেলে এখন সমাজে নানা রকম সমস্যার মধ্যে পড়েছে। অ্যালাইড ডায়াগনস্টিকের উচিত ছিল এত বড় একটি সেনসিটিভ বিষয় একে আবার পরীক্ষা করা। সেটা তারা করেনি। এখানেই শেষ নয়। বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য ছেলেটির বাবা-মাকে টাকার অফার করেছে। এটা সরাসরি আরও একটি অপরাধ করেছে।’

সর্বশেষ..