প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আইইএ’র পূর্বাভাস চলতি বছর চাহিদা বাড়বে জ্বালানি তেলের

 

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে ভোগ বৃদ্ধি এ চাহিদায় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। খবর এএফপি।

জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে আইইএর সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে জ্বালানির চাহিদার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে সংশোধন আনা হয়েছে। চলতি বছর প্রতিদিন এক দশমিক চার বিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের বেশি চাহিদা থাকবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইতোমধ্যে চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চাহিদা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পর ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো কিছু দেশের ভোগ বেড়ে যাওয়ায় এ চাহিদা বেড়েছে।’

প্রতিবেদনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী চলতি বছর প্রতিদিন গড়ে ৯৮ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকবে। আগামী বছর চাহিদা বৃদ্ধির হার একই থাকবে। ওই বছর প্রতিদিন চাহিদা থাকবে প্রতিদিন ৯৯ দশমিক চার মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল।

এদিকে জ্বালানি তেলের দর বাড়াতে রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক উৎপাদন সীমিত করার চুক্তির ব্যবস্থা করলেও তা মানছে না অনেকে। ফলে তেলের মজুত বাড়ার আতঙ্কে রয়েছে বিনিয়োগকারীরা। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দর নি¤œমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি ১৭২তম সভায় ওপেক ও ওপেক বহির্ভূত অন্য শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ উত্তোলন হ্রাস চুক্তিটির মেয়াদ নয় মাস বাড়াতে একমত হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত চুক্তিটি কার্যকর থাকবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গত বছরের শেষের দিকে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে সমর্থ হয় ওপেক। ৩০ নভেম্বর ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল হারে জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়ে আনতে সম্মত হয় ওপেকের সদস্য দেশগুলো। এর কয়েক দিন পরই রাশিয়াসহ ওপেকের বাইরে থাকা ১১ শীর্ষ উত্তোলক দেশও জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে অর্ধেকে নিয়ে আসতে সম্মত হয়।

২০১৪ সালের জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয় ১১৫ ডলারে। কিন্তু অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে তা ব্যারেলপ্রতি ২৭ ডলারের নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে বিশ্বে তেলের চাহিদাও কমে যায়। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতেই এ চুক্তি করা হয়।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের রফতানি চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত সরবরাহের এ খবর বাজারকে সয়লাব করে দিচ্ছে। যে কারণে বাজার চাঙা করতে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কাজে আসছে না।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে পণ্যটির উৎপাদন এক শতাংশ বেড়ে প্রতিদিন গড়ে নয় দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।