প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আইইএলটিএস কোচিং বাণিজ্য

শিক্ষার্থীরা তাদের লেভেল অনুযায়ী আইইএলটিএস পরীক্ষায় স্কোর করে। লেভেল নিশ্চিত না হয়ে পরীক্ষা দিলে কাক্সিক্ষত স্কোর না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ডেভলপমেন্ট সলিউশনস বাংলাদেশ-এর প্রজেক্ট কনসালটেন্ট সাইয়্যেদ আমিনুর রহমান ও আইইএলটিএস পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন মুতাসিম বিল্লাহ নাসির

ইমদাদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাবেন এমনটিই পরিকল্পনা। ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম (আইইএলটিএস) পরীক্ষায় ভালো স্কোর করতে ভর্তি হলেন কোচিং সেন্টারে। এক বছর পড়াশোনাও করলেন। পরীক্ষায় ফল এলো ৬।

শেখ ফাহাদ (ছদ্মনাম)। তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। উচ্চশিক্ষায় বিদেশে যেতে তিনি কয়েকবার আইইএলটিএস পরীক্ষা দিয়েছেন। বিপুল অর্থ ইতোমধ্যে ব্যয় হলেও তার স্কোর ৬-৬.৫-এর বেশি এগোয়নি।

অনেকেই বিভিন্ন কারণে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা নির্ণয়ে আইইএলটিএস পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ থেকে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এ কোর্সটির জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, তার হিসাব জানা না থাকলেও আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ প্রাপ্ত স্কোর নিয়ে দেশভেদে একটি শতকরা বিন্যাস প্রতি বছর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সাধারণত ৬.৫ বা তার বেশি স্কোর না পেলে এই ফল কোনো কাজে আসে না।

িি.িরবষঃং.ড়ৎম’র সূত্র অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ আইইএলটিএস পরীক্ষার্থী একাডেমিক ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের স্কোর ছিল নি¤œরূপ :

মজার ব্যাপার হলো, জেনারেল ক্যাটাগরির স্কোরও একই রকম। সাধারণত ৬ বা এর কম স্কোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসে না। সেক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর আইইএলটিএসের পেছনে খরচ হওয়া টাকা বৃথা যায়। কারণ হিসেবে বলা যায়, পরীক্ষার্থীদের স্কোরকেন্দ্রিক চিন্তা ও আইইএলটিএস-কে কেন্দ্র করে গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোর কাক্সিক্ষত স্কোরের চটকদারি বিজ্ঞাপনই দায়ী। শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস দেওয়ার আগে মৌলিক ইংরেজি দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো থেকে যায় আড়ালে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাকে বলে কমন ইউরোপিয়ান ফ্রেমওয়ার্ক অব রেফারেন্স ফর ল্যাঙ্গুয়েজ, সংক্ষেপে সিইএফআর হিসেবে পরিচিত। সিইএফআর ভিত্তিতে ছয়টি লেভেলে ভাগ করা হয়- অ১, অ২, ই১, ই২, ঈ১ ও ঈ২।   ইংরেজিসহ মোট ৪০টি ভাষার দক্ষতা নির্ধারণ সিইএফআর লেভেল অনুযায়ী করা হয়। এর মধ্যে আরবি ও জাপানি ভাষাও রয়েছে। সিইএফআর লেভেল নির্ণয় করার জন্যই মূলত আইইএলটিস, টোফেল প্রভৃতি ভাষা পরীক্ষার আয়োজন। শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বব্যাপী ভাষা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে সিইএফআর লেভেল ও আইইএলটিএস স্কোরের যোগসূত্র তুলে ধরেছে, যা বাংলাদেশের অধিকাংশ কোচিং সেন্টার অনুসরণ করে না।

সূত্র : িি.িরবষঃং.ড়ৎম

অর্থাৎ প্রতিটি মানুষ তার লেভেল অনুযায়ী আইইএলটিএসে স্কোর করে থাকে। লেভেল নিশ্চিত না হয়ে পরীক্ষা দিলে কাক্সিক্ষত স্কোর না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ঠিক এমনটাই আমাদের পরীক্ষার্থীদের বেলায় ঘটে। নিজের ইংরেজি দক্ষতার লেভেল না জেনে সরাসরি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার ফল আশানুরূপ না হওয়াই স্বাভাবিক। পরীক্ষার্থীরা একটি বিষয় বুঝতেই পারেন না যে, আইইএলটিএস প্রস্তুতি কোর্সে ইংরেজি শেখার সুযোগ কম, এটি কেবল তাকে মূল পরীক্ষার প্রশ্নের ধারার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর ই২ লেভেলের নিচের দক্ষতা নিয়ে একাডেমিক আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ না নেওয়াই ভালো।

দেশের অধিকাংশ কোচিং প্রতিষ্ঠান আইইএলটিএস পরীক্ষায় উচ্চ স্কোর ও সফলতার লিখিত গ্যারান্টি দেয়। সেজন্য কী প্রক্রিয়ায় আগাতে হবে, সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের কোনো ধারণা দেয় না। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টার্স ইন ইউরোপ (এএলটিই) মনে করে, ইংরেজির দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নিচের ছক অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চর্চা করা দরকার :

সূত্র : যঃঃঢ়://িি.িবহমষরংযঢ়ৎড়ভরষব.ড়ৎম

এ বিষয়টি এদেশে একেবারেই উপেক্ষিত। অধিকাংশ কোচিং সেন্টার একই কোর্স ম্যাটেরিয়াল সবাইকে পড়ায়। ভিন্ন ভিন্ন লেভেলের শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা কোনো ম্যাটেরিয়াল বা ক্লাস নেই। সবাইকে পাঠদানও করা হয় একই ক্লাসে। বাজারের বইগুলোও একটু একটু করে জোড়া দিয়ে বানানো কপিরাইট আইনের পরিপন্থী হওয়ার পরও।

কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষকদের নিজস্ব ভাষাগত দক্ষতা থাকলেও পড়ানোর কৌশল সম্পর্কে তেমন ভালো ধারণা নেই।  সফলতার পরিসংখ্যানেরও নেই কোনো তথ্য।

তাই শিক্ষার্থীদের এসব কোর্স করার ক্ষেত্রে হতে হবে সতর্ক। ইংরেজি বিষয়ে কোনো কোর্স করতে চাইলে  খেয়াল রাখতে হবেক্সকোর্সটি ব্যক্তির লেভেল উপযোগী কি না এবং কোর্স ম্যাটেরিয়াল সিইএফআর অনুযায়ী মানসম্মত কি না। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে অবশ্যই হাতে কিছুটা সময় নিয়ে শিক্ষা শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এ বিষয়ে মাঝে মাঝে শিক্ষণীয় সেমিনার, কর্মশালার আয়োজন করা।