প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আইটি খাত আরও বিকশিত হোক

দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে আইটি অন্যতম। যেসব পণ্য রফতানি হয়, সেগুলোর মধ্যে সম্ভাবনাময় হচ্ছে এ খাত। আশা করা হয় আইটি খাত বিকশিত হলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে আইটি খাত উন্নয়নের বিকল্প নেই।
গতকাল শেয়ার বিজে ‘আইটি রফতানিতে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের আইটি খাতে রফতানি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। খাতটির উন্নয়ন ইতোমধ্যে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বাংলাদেশের এ খাতের বিকাশে প্রশংসা করেছেন।
দেশে এখন প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে দুইশ ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে কম্পিউটার স্থাপন করে আইটি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে চাষিরাও বিভিন্ন ধরনের সেবা নিচ্ছেন। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান আহরণ করছেন শিক্ষার্থীরা। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া ও নেওয়া যাচ্ছে অন্য মাধ্যমের তুলনায় দ্রুত। অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবহার করা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি। পরিবর্তন এনেছে কেনাকাটা ও ব্যাংকিং লেনদেনে। ই-ব্যাংকিং বা ই-কমার্স জনপ্রিয় হচ্ছে যুবসমাজে। অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হয়ে উঠছে আইটি ব্যবহারে। এর সুবিধাও রয়েছে ম্যানুয়ালের চেয়ে বেশি। এ খাত বিকশিত হওয়ায় বেড়েছে আউটসোর্সিং। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অনেকে আয় করছেন। গ্রামের অনেকেই বাড়িতে বসে বিদেশের কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন।
মূলত তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য রফতানি করা হয় এখান থেকে। পাশাপাশি দিন দিন কম্পিউটার সফটওয়্যার রফতানি বাড়ছে। বাংলাদেশের সফটওয়্যারের চাহিদাও বাড়ছে অনেক দেশে। সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের তরফে আরও আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা জোগানো যেতে পারে, যাতে তারা মান উন্নয়ন করে আরও বেশি রফতানি করতে পারে। দেশের অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের সফটওয়্যার বিদেশ থেকে নিয়ে আসে। এক্ষেত্রে যুক্তিও দেখান তারা। অনেকে অভিযোগ করেন, তাদের মান দেশের চেয়ে ভালো না হলেও ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার জন্য এ কাজ করেন। অনেক আইটি বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, অন্য দেশের চেয়ে তাদের সফটওয়্যার উন্নতমানের। দেশের বৃহৎ একটি যুবগোষ্ঠী আউটসোর্সিংয়ে আগ্রহী। তারা ধরাবাঁধা চাকরির চেয়ে এটা বেশি পছন্দ করে। আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং নতুনদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী তৈরিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখবে আশা করি।
আইটি খাতের যেসব প্রকল্প ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে, অভিযোগ রয়েছে কোনো কোনোটি সঠিকভাবে হয়নি। এ খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারিভাবে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু কাগজে-কলমে নয়, সত্যিকার অর্থে এ খাতকে আরও বিকশিত করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন বেগবান করা হবে, এটাই কাম্য।