দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আইটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিটিআরসির চুক্তি

অবৈধ হ্যান্ডসেট রহিতকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে গ্রে-মার্কেটসহ অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধে ও মোবাইল গ্রাহকের হ্যান্ডসেটের নিরাপত্তা বিধান, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তা, অবৈধ ও নকল মোবাইল হ্যান্ডসেটের বিক্রয়/আমদানি ও বাজারজাতকরণে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যের পাশাপাশি বৈধ সেটের নিবন্ধনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে চুক্তি করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি।

গতকাল বিটিআরসি কার্যালয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিটিআরসির পক্ষে স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক লেফটেনেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল ও সিনেসিসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম কার্যক্রম চালু করতে হবে সিনেসিসকে।

এই চুক্তি ফলপ্রসূ হবে আশা প্রকাশ করে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, ‘এই চুক্তি সব আইন মেনে করা হয়েছে। দেশীয় কোম্পানি বলে কোনো দয়া করে সিনেসিসকে কাজ দেওয়া হয়নি, যোগ্যতার কারণেই তারা কাজ পেয়েছে। এখন তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে তারা যেন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কাজটা সম্পন্ন করে।’

তিনি আরও বলেন, এনইআইআর সিস্টেম সম্পন্ন হলে সরকার প্রতি বছর চার হাজার কোটি টাকার মতো বাড়তি রাজস্ব পাবে। চুক্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠান চুক্তির শর্ত মোতাবেক যথাসময়ে কাজ শেষ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল আলম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এনইআইআর সিস্টেমের কারিগরি বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের প্রয়োজনীয় ও ত্বরিত সহযোগিতা পাওয়া গেলে সফলভাবে গ্রাহকপ্রান্তে এ সেবাটি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সিনেসিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রকল্পটি পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে বাস্তবায়ন ও সুসম্পন্ন করা হব। চুক্তি অনুয়ায়ী ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে, অর্থাৎ ৯ জুনের মধ্যে প্রকল্প চালু করার কথা রয়েছে। আমরা মনে করি আগামী মার্চের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ করতে পারব। এ জায়গায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক সঞ্জীব কুমার সিংহ বলেন, ‘দেশে অবৈধ পথে মোবাইল সেট আসার কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। গত এক বছরে অবৈধভাবে মোবাইল সেট প্রবেশের কারণে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া অবৈধ মোবাইল সেট প্রবেশের কারণে দেশের নিরাপত্তা, এ শিল্পের সার্বিক ক্ষতি এবং সেসব মোবাইল সেটে নিয়ন্ত্রিত মাত্রার বেশি রেডিয়েশনের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে।’

অনুষ্ঠানে অনলাইনে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিটিআরসির উপপরিচালক জাকির হোসেন খান।

এনইআইআর সিস্টেম কীভাবে পরিচালিত হবে এবং গ্রাহক কীভাবে এতে সম্পৃক্ত হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এনইআইআর সিস্টেমটি সরাসরি প্রত্যেক মোবাইল অপারেটরের ইআইআরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গ্রাহকদের মোবাইল ফোন সেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিবন্ধিত হয়ে ব্যবহার উপযোগী হবে। এনইআইআর বৈধতা যাচাই করে তাৎক্ষণিকভাবে হ্যান্ডসেটে প্রবেশের সিদ্ধান্ত দেবে।’ এ ব্যবস্থা চালু হলে বাজারে আগে থেকে গ্রাহকদের হাতে থাকা মোবাইল সেটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্নে জাকির হোসেন বলেন, ‘২০১৯ সালের ১ আগস্টের আগে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটররের নেটওয়ার্কে ব্যবহƒত সব মোবাইল সেট এবং ২০১৯ সালের ১ আগস্টের পরে বৈধ পথে আমদানি করা এবং দেশে উৎপাদিত/সংযোজিত সব ফোন সেটের তথ্য কমিশনে সংরক্ষিত রয়েছে। এর বাইরে যদি কোনো মোবাইল সেট থাকে, সে বিষয়ে পরবর্তীতে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..