সারা বাংলা

আইনজীবি সহকারীকে হত্যার চেষ্টা, ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

প্রতিনিধি, নোয়াখালী: নোয়াখালী সদর উপজেলার চর আমান উল্যাহর সাতাইশ দ্রোন এলাকায় চাঁদার দাবিতে আইনজীবি সহকারীকে হত্যার চেষ্টাসহ খরিদীয় জমির ফলিত ফসল বিনষ্ট করছে সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় নোয়াখালীর সিনিয়র বিচারিক ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে বিবাদীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রতিকার নেয়নি চরজব্বর থানার পুলিশ।

তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহেদ উদ্দিন জানান, এস আই ইকবালকে বিষয়টি দেখার জন্যে বলা হয়েছে। এসআই ইকবাল এ প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত যাই করার করবেন।

সরেজমিনে সাংবাদিকেরা গেলে এলাকাবাসী জানান, আনোয়ার হোসেন বিগত ক’বছর আগে ছাপ কবলা দলিল মূলে চর আমান উল্যাহর সাতাইশ দ্রোন মৌজায় ৮০ শতক জমি খরিদ করে মালিক হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন।

সম্প্রতি লোভ-লালসা ও চাঁদাবাজি চরিতার্থ করতে গিয়ে এলাকার সিরাজ ও আবদুল খালেকের নেতৃর্ত্বে সংঘবদ্ধ কতেক ভূমিদস্যুচক্র ওই ভুমি দখল করতে নানামুখী ফন্দিফিকির লিপ্ত হয়ে ওঠে। আনোয়ার হোসেন চাঁদাবাজগোষ্ঠীর কুমতলব বুঝতে পেরে জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আদালত এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলার ভূমি সহকারী কমিশনারকে তদন্ত প্রতিবেদন ও ভূমিতে স্থিতিবস্থা ও সার্বিক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে চররজব্বর থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর অভিযুক্ত সিরাজ জমির মালিক আনোয়ার হোসেনের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এ চাঁদা পেলে ভুমির ভোগ দখলে কোন ধরনের বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করবেননা। নচেৎ জমি দখলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি সাধন করার হুমকি ধমকি প্রদান করেন। অবশ্য এ রিপোর্ট লেখাকালে অভিযুক্ত সিরাজকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন না ধরায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

একপর্যায়ে, জমির মালিক আনোয়ার হোসেন অভিযুক্ত সিরাজের দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ না করায় সিরাজ ও আবদুল খালেকের ইন্ধনে ও নির্দেশে আবদুর রহিম, মোজাম্মেল হোসেন, আবুল কালাম, আবদুল মন্নান, বদিউল আলম ও জাকের হোসেনসহ সংঘবদ্ধ আরো ৭-৮ জন ব্যক্তি  গত ২৮ জুলাই দা, ছেনী, লাঠি ও অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় আনোয়ারের হোসেনের ফসলি জমিতে গিয়ে ফলিত পুরো ফসলই বিনষ্ট করে দেয়।

ঘটনাটি জমির বর্গা চাষী ইউসুফ জমির মালিক আনোয়ার হোসেনকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে আসা মাত্রই বিবাদীরা আনোয়ারকে কিল, ঘুষি ও লাঠি নিয়ে মালধোর শুরু করে। এ সময়  মামলার এজাহারে অভিযুক্ত বিবাদী আবদুর রহিম জমির মালিক আনোয়ারকে একা পেয়ে গলাচিপে ধরে প্রাণেহত্যার চেষ্টা করে। আনোয়ারের শৌ’চিৎকারে মামলার সনাক্তকৃত স্বাক্ষীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে বিবাদীদের নিবৃত করার চেষ্টা করে।

এ সময় আনোয়ারের প্যাণ্টের পকেটে কোরবানি গরুর কেনার জন্যে রক্ষিত থাকা ষাট হাজার টাকা নগদ টাকা, মোবাইলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..