আজকের পত্রিকা

আইনের কারণে দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হচ্ছে

কর্মশালার উদ্বোধনীতে পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমাদের সমাজে অন্যায় গেড়ে বসেছে। ফলে দারিদ্র্য পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। অন্যায়গুলো দূর না হলে দারিদ্র্য দূর হবে না। দারিদ্র্যের যে কারণগুলো রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার। হঠাৎ করেই এরা দরিদ্র হননি, প্রতিনিয়ত আমরা তাদের আরও দরিদ্র করছি। আইনের মাধ্যমেই করছি। পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান এমন মন্তব্য করেছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবন মিলনায়তনে গতকাল ‘টেকসই উন্নয়ন অর্জনে আন্তর্জাতিক সূচক’বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনের কারণে সমাজের দরিদ্ররা কীভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেনÑতার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের ক্ষুদ্র জলাশয়গুলোতে দরিদ্ররা ছোট ছোট মাছ ধরতেন। কিন্তু এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ হওয়ায় আমরা আইন করে এভাবে উম্মুক্তভাবে সবার মাছ ধরা বন্ধ করেছি। আর সেগুলো থেকে রাজস্ব আহরণ করতে ইজারা দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই এগুলো ইজারা নেন পয়সাওয়ালা ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা। ফলে সাধারণ দরিদ্ররা মাছ ধরার অধিকার হারায়। এতে দরিদ্র্য মানুষগুলো বঞ্চিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিন সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এতে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রচুর অন্যায় এদেশে গেড়ে বসেছে। দারিদ্র্যের অন্যায়গুলো পরিষ্কার, হঠাৎ করে এরা দরিদ্র হননি। আইনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমরা তাদের দরিদ্র করছি আরও। সেগুলো আমাদের কাছে পরিষ্কার। কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না।’

প্রায় ৩০ বছর আগে নিজে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) থাকার সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি ডিসি থাকা অবস্থায় একবার কিছু গরিব মানুষের হাতে খাসজমির দলিল তুলে দিয়েছিলাম। তবে দুই মাস পর শুনি সেগুলো তাদের নেই। প্রভাবশালীরা তাদের মেরে বের করে দিয়েছে অথবা কিছু বকশিশ দিয়ে বিদায় করে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এখন উন্নয়নের ফুরফুরে হাওয়া বইছে। সার্বিকভাবে একটি ভালো পর্যায়ে আছি বলে আমি মনে করি। তবে আমাদের সাবধানে থাকতে হবে। কারণ, এখন উন্নয়নের বাস্তবতার চেয়ে তথ্য কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ এ জন্য তিনি উন্নয়নের চিত্র যাতে বিশ্বের উন্নয়ন প্রতিবেদনগুলোয় সঠিকভাবে সন্নিবেশিত হয়, সে জন্য দক্ষতার সঙ্গে তথ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা উন্নয়নে বাস্তবে ভালো করছি। কিন্তু তথ্যে ভালো করতে পারছি না। অথচ উন্নত বিশ্বের কাছে বাস্তবের চেয়ে তথ্যের উন্নয়নের গুরুত্ব বেশি।’ তাই এসডিজিসহ উন্নয়নের সব তথ্য সর্বাধুনিকভাবে উপস্থাপন এবং এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন তিনি।

ড. শাসমুল আলম বলেন, আমরা যতই উন্নতি করি না কেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করা হয়। এজন্য আমাদের ব্রন্ডিং ইমেজ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির তথ্য আমাদের উন্নতিকে প্রকাশ করে; কিন্তু এর প্রতিফলন অন্যান্য সূচকে থাকতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সূচকে উন্নতি করতে হলে সুশাসন, বিশেষ করে আর্থিক খাতে সুশাসন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ২৩ আন্তর্জাতিক ইনডেক্স নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এসডিজি, ব্যবসা সহজীকরণ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনগুলোয় তথ্যের সঠিক বিন্যাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পারফরম্যান্স ভালো হলেও রিপোর্টিং ভালো না হওয়ার কারণেও অনেক সময় সঠিক উন্নয়নচিত্র দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।’

সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, শুধু এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতিই নয়, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ পর্যায়ে রয়েছে। এজন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..