সম্পাদকীয়

আইন না মানা বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

বিদ্যমান বিমা আইন অনুযায়ী, জীবন বিমাগ্রহীতার অংশের ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ থাকতে হবে সরকারি বন্ডে। বাকি ৭০ শতাংশ অন্যান্য ঝুঁকিমুক্ত খাতে। এই ৭০ শতাংশ যেখানেই বিনিয়োগ করা হোক না কেন, বিমাগ্রহীতাদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আমাদের বিমা কোম্পানিগুলো সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ: আইন মানছে না ১৮ জীবন বিমা কোম্পানি’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিমাগ্রহীতাদের নিরাশ করবে বলেই ধারণা।
খবরে বলা হয়, সরকারি সিকিউরিটিজ-বন্ডে বিনিয়োগ করছে না দেশে ব্যবসারত অন্তত ১৮ জীবন বিমা কোম্পানি। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশন ও ভারতীয় লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশনের (এলআইসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান এলআইসি বাংলাদেশের নাম।
এটি দুঃখজনক যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি আইন লঙ্ঘনকারীর তালিকায় রয়েছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারি-বেসরকারি বিভাজন ঠিক নয়। কিন্তু আমাদের দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে সরকারি আনুকূল্য পাওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। আনুকূল্য পেয়েও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান তেমন লাভজনক হয়ে উঠতে পারছে না এমন অভিযোগও রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইন লঙ্ঘনের তালিকায় থাকলে এবং সেটির বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো শৈথিল্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও প্ররোচিত হয়। আমরা চাই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরপেক্ষ থাকবে এবং আইন পরিপালনে সব প্রতিষ্ঠানকে প্রেষণা জোগাবে।
আইন অমান্য করায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর আগেও ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে একাধিক কোম্পানিকে দফায় দফায় নির্দেশ ও লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েও নির্ধারিত সময়ে বিনিয়োগ করাতে পারেনি। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ পায়। কেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। সময়োপযোগী বিনিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও উঠছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। এ দাবি যৌক্তিক।
মূলধনি মুনাফার সুযোগ না থাকা ও সুদহার কম হওয়ার কারণ দেখিয়ে বিমা কোম্পানিগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়। কিন্তু শেয়ারবাজার, সম্পত্তিসহ নানা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে পলিসি ও শেয়ারহোল্ডারদের তহবিল বিনিয়োগ করে এসব কোম্পানি। তবে ইসলামি জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এসব কোম্পানি সুদভিত্তিক বিনিয়োগ করতে পারে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত ইসলামি বন্ডে বিনিয়োগ করে থাকে এসব কোম্পানি। এখানে মুনাফার হার সাধারণত পাঁচ শতাংশের কম। ফলে এসব কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হয়। বিমা কোম্পানিগুলো আইন মেনে ব্যবসা করলে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইন পরিপালনে যথোচিত ব্যবস্থা নিলে বিমা খাত পিছিয়ে থাকবে না বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..