সম্পাদকীয়

আইন মেনে নির্মিত হোক রাজধানীর ভবনগুলো

রাজধানীতে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবন বৃত্তান্ত জীবনযাপন করছেন অনেকে। অগ্নি-দুর্ঘটনার পর জানা যায়, ভবনটি পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়নি। সরু রাস্তার জন্য অগ্নিনির্বাপক দলের গাড়ি অকুস্থলে পৌঁছাতেও পারে না। ভবন নির্মাণের বিভিন্ন কাজে একাধিক সংস্থা জড়িত। আছে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। সময় সময় এটিও হালনাগাদও করা হয়। বিধি অনুযায়ী কোনো ভবন নির্মাণে অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়। যেমন অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন ও কাঠামো নির্মিত হয়েছে কি না, সুপ্রশস্ত রাস্তার আছে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাপ ও আগুন প্রতিরোধক হিসেবে কাজ কাজ করবে, অগ্নি-প্রতিরোধক দরজা ব্যবহার হয়েছে কি না, অগ্নি-প্রতিরোধক উপকরণ সন্নিবেশিত হয়েছে কি না, অগ্নি-নিরাপদ সিঁড়ি (যা বিভিন্ন তলা হতে অগ্নি-প্রতিরোধক দরজা দ্বারা মূল ভবন হতে আলাদা হবে এবং ভবনের বহির্ভাগে খোলা স্থানের সঙ্গে উম্মুক্ত থাকিবে।) এবং ভবনের ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস যথানিয়মে অনুসৃত হয়েছে কি না।

প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র নিয়েই ভবন নির্মাণের উদ্দেশে মাটি কাটা ও পাইলিং বা ভিত্তিনির্মাণ শুরু হয়। এরপর নির্মাণকাজ চলাকালে সুষ্ঠু তদারকি করা হলো কোনো পর্যায়ে অনিয়ম থাকার কথা নয়। তবুও ছাড়পত্র ছাড়া ভবন ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত খবরে আরও বলা হয়, সরকার নতুন একটি বিল্ডিং কোড প্রস্তুত করেছে। এটি আইনে পরিণত হলে যে কেউ যত্রতত্র ভবন তৈরি করতে পারবেন না বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

আমরা মনে করি, বিদ্যমান আইন ও বিধি বাস্তবায়িত হলেই রাজধানীর ভবনগুলো নিরাপদ হবে। ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের একটি অংশ হলো ফায়ার কোড, কিন্তু এ কোড মেনে চলা নিশ্চিত করা হয় না। ভবন নির্মাণকালে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি থাকলে সব বহুতল ভবনেই নিজস্ব অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকত। 

নিমতলীর দুর্ঘটনার পর গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটি ১৭ দফা সুপারিশ করেছিল। দাহ্য কেমিক্যাল আনা-নেয়া বন্ধ করাসহ নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলায় নির্দেশনাও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ সরকার পরিবর্তিত না হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কিংবা ১৭ দফা সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়নি।

দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় জীবনবাজি রেখে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হলেই তাদের কাজ শুরু। সংস্থাটির কর্মীরা কাজে দক্ষতা, পেশাদারি ও মানবতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে বাসোপযোগী করে তোলা পর্যন্ত যে কয়েকটি অধিদপ্তর-সংস্থা জড়িত, সেগুলো যথাযথ দায়িত্ব পালন করে না বলেই প্রতীয়মান। তারা দায়িত্বশীল হলে ঢাকা মহানগরীতে নতুন করে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মিত হবে না। বিধি অমান্য করে ভবন নির্মাণে কোনো ভবন মালিক, আবাসন ব্যবসায়ী এমনকি গণপূর্ত-রাজউকের কেউ জড়িত থাকলে শূন্যসহশীলতায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..