আইপিওতে তোলা হবে দুই হাজার কোটি টাকা

পাইপলাইনে ২৭ কোম্পানি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজার থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য পাইপলাইনে রয়েছে ২৭ কোম্পানি। এরই মধ্যে এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১২ কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এবং ১৫ কোম্পানি স্থির মূল্য বা ফিক্সড প্রাইসে তালিকাভুক্ত হতে চায়। এসব প্রতিষ্ঠানের আইপিও অনুমোদন মিলবে আগের নিয়মে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যে কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে ইচ্ছুক, এর মধ্যে ডেল্টা হসপিটাল ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। একইভাবে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন ১৪৯ কোটি ৮৬ টাকা ও স্টার সিরামিকস ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এছাড়া বারাকা পতেঙ্গা ২২৫ কোটি টাকা, লুব-রেফ বাংলাদেশ ১৫০ কোটি টাকা, আমান টেক্স ২০০ কোটি টাকা, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ১০০ কোটি টাকা, ইনডেক্স এগো ইন্ডাস্ট্রিজ ৫০ কোটি টাকা, এডিএন টেলিকম ৫৭ কোটি টাকা, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড ১২৫ কোটি টাকা, মডার্ন স্টিল মিলস ২০০ কোটি টাকা এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৭০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়।
এদিকে ফিক্সড প্রাইস বা স্থির মূল্য পদ্ধতিতে আইপিওতে আসতে আগ্রহী ১৫ কোম্পানির মধ্যে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ২৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা উত্তোলন করবে। একইভাবে ইলেকট্রো ব্যাটারি কোম্পানি সাড়ে ২২ কোটি টাকা, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ১৬ কোটি টাকা ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ১৬ কোটি টাকা উত্তোলন করতে ইচ্ছুক। এছাড়া পিইবি স্টিল অ্যালায়েন্স ১৫ কোটি টাকা, আসিয়া সি ফুড ২০ কোটি টাকা, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ১৯ কোটি টাকা, আল-ফারুক ব্যাগস ৩০ কোটি টাকা, বিডি পেইন্টস ২০ কোটি টাকা, ই-জেনারেশন ১৫ কোটি টাকা, এসএফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ ১৮ কোটি টাকা, বনিতো অ্যাক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ ৩০ কোটি টাকা, বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ১৫ কোটি টাকা, এএফসি হেলথ ১৭ কোটি টাকা এবং ওরিজা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি আইপিও অনুমোদনের বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এসব কোম্পানি আবেদন করেছে এর আগে। সেজন্য কোম্পানিগুলোর আগের নিয়মে অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যেসব কোম্পানি পাইপলাইনে রয়েছে, এর মধ্যে সব কোম্পানিই পুঁজিবাজারে আসার অনুমোদন পাবে না। কারণ, আমরা এসব কোম্পানির ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো কোম্পানির কমপ্লায়েন্স ভালো না থাকলে সে কোম্পানির আইপিও বাতিল করা হবে। এটি করা হবে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থের কথা ভেবে। কারণ, কোনো কারণে দুর্বল কোম্পানি অনুমোদন পেলে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীকেই এর ভোগান্তি পোহাতে হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আইপিও বিধিমালায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেজ্ঞ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান ফিক্সড প্রাইসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করতে হবে। অন্যদিকে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি প্রিমিয়াম নিতে চায়, অর্থাৎ বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে চায়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করতে হবে।

 


সর্বশেষ..