প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আইপিওতে ৪৯৫ কোটি টাকা তুলেছে সাত কোম্পানি

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাস

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ:ইনিশিয়াল পাবলিক অফারের (আইপিও) মাধ্যমে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) পুঁজিবাজার থেকে ৪৯৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে সাত কোম্পানি। অধিকাংশ কোম্পানিই এ অর্থ দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করার কথা বলেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে যে প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে সেগুলো হচ্ছেÑএসকোয়ার নিট, রানার অটোমোবাইল, নিউ লাইন ক্লোথিং, সিলকো ফার্মা, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, সি পার্ল রিসোর্ট ও রিং সাইন টেক্সটাইল।

এসব কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে এসকোয়ার নিট ও সী পার্ল রিসোর্ট। এই প্রতিষ্ঠান দুটি পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি করে মোট ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এছাড়া রানার অটোমোবাইল পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিউ লাইন ক্লোথিং ৩০ কোটি টাকা, সিলকো ফার্মা ৩০ কোটি, কপারটেক ২০ কোটি ও রিংসাইন টেক্সটাইল ১৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে। এসব কোম্পানির মধ্যে রানার অটোমোবইল এবং এসকোয়ার নিট বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি অর্থ সংগ্রহ করেছে, এটা ভালো খবর। কিন্তু গত কয়েক বছরে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে, এগুলোর বেশিরভাগ স্বল্পমূলধনি কোম্পানি। সব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তিও যে মজবুত, সেটা বলা যায় না। অন্যদিকে কোম্পানিগুলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছে, সেটা সঠিকভাবে পালন করছে কি না, তার প্রতি নজরদারি রাখা জরুরি। কারণ অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যায়।

তারা বলেন, আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে ভালো মানের কোম্পানির সংখ্যা কম। সে জন্য পুঁজিবাজারের উন্নয়নের কথা ভেবে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে আসতে হবে। এটা যদি সংখ্যায় কমও হয় সেটা ভালো। দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারের কোনো উন্নয়ন হয় না, উল্টো এসব কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা থাকে।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানির সংখ্যা কম। সে কারণে ভালো শেয়ারের অভাব। এটা নিরসন করতে হলে ভালো মানের কোম্পানির পাশাপাশি সরকারি এবং বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসতে হবে। এতে বাজারও যেমন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও উপকৃত হবেন।

একই প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভীর মত, ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারের খুঁটি হিসেবে কাজ করে। তাই ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনতে জোর দেওয়া জরুরি। ভালো কোম্পানি আনতে পারলে পুঁজিবাজারের শক্তি অনেক বেড়ে যাবে। তাহলে কোনো অবস্থাতেই বাজারে বড় ধরনের পতন হবে না।

এর আগে গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) পুঁজিবাজার থেকে ৫৭১ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে ১৪ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১৩ কোম্পানি এবং একটি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। এর আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) পুঁজিবাজার থেকে মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান ৫৪১ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।

সর্বশেষ..