শেষ পাতা

আইপিওর অর্থ ব্যয়ে সময় বেড়েছে: দেড় বছরেও শেষ হয়নি তশরিফার নতুন প্রকল্প

পলাশ শরিফ: অর্থ উত্তোলনের এক বছরের মধ্যে নতুন ইউনিট স্থাপন প্রক্রিয়া শেষ হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা তুলেছে ‘তশরিফা ইন্ড্রাস্টিজ’। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কারখানা সম্প্রসারণ কাজ শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে উত্তোলিত অর্থের মাত্র ৬৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। শেষ মুহূর্তে আরও এক বছর সময় নিয়েছে বস্ত্র খাতের ওই কোম্পানিটি।

আইপিও প্রসপেক্টাসের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে প্রায় দুই কোটি ৪৫ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা তুলেছে তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। এর মধ্যে কারখানা সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। কারখানা সম্প্রসারণে জমি ক্রয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডায়িং-সুইং ইউনিটের যন্ত্রপাতি আমদানিতে ওই অর্থ ব্যয় করবে কোম্পানিটি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ করে নভেম্বরেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। নতুন ওই প্রকল্পের সুবাদে উৎপাদন ও মুনাফা বাড়ার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়েছিল। তবে অর্থ উত্তোলনের দেড় বছরেও ওই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিনিয়োগকারীর অর্থ নেওয়া বহুল প্রত্যাশিত প্রকল্প এখনও প্রসপেক্টাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নির্ধারিত সময়ে তিন মাস পরও উৎপাদনে যায়নি নতুন প্রকল্প। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জমি ক্রয়-উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। তবে নতুন ভবন-শেডসহ অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়নি। সে সঙ্গে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতির আমদানি প্রক্রিয়া এলসি খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সিংহভাগ যন্ত্রপাতি এখনও আসেনি। শেষ মুহূর্তে আরও এক বছর সময় নিয়েছে তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। আগামী বছরের জুনে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। তবে বিদেশ থেকে মেশিনপত্র আমদানিতে সময়ক্ষেপণ হলে শেষ মুহূর্তে গিয়ে তিনমাস পিছিয়ে নভেম্বরে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারে।

এদিকে সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের প্রায় ৬৩ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসিও খোলা হয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি এসেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের জুনে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। এর আগে ২০১৫ সালে জুনে নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূলত অতি বৃষ্টির কারণেই অবকাঠামো উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।

করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, আগামী বছরেই নতুন প্রকল্প বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মার্চের মধ্যেই কনস্ট্রাকশনের বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসি খোলা আছে। জুনের আগেই মেশিনপত্র চলে আসবে।

তবে আইপিওর অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ওই কর্মকর্তা। ওই বিষয়ে অর্থ ব্যয় বিষয়ে বরং প্রধান অর্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

পরে কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) জিল্লুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন শোনার পর তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, আমি আজকে মহাব্যস্ত। কোনো কথাই বলতে পারবো না। শুধু আমি কেন আমরা কেউ আপাতত কোনো কথা বলতে পারছি না।

অন্যদিকে নতুন প্রকল্পে সময়ক্ষেপণের কারণে সর্বশেষ অর্থবছরে তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন ও মুনাফা বাড়েনি। কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় তিন কোটি ৪৮ লাখ টাকা কমে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে কর-পরবর্তী মুনাফা দুই কোটি ১৩ লাখ টাকা বেড়েছে। কোম্পানিটির অ-পরিচালন আয় প্রায় ছয় কোটি টাকা বৃদ্ধির কারণে কর-পরবর্তী মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উৎপাদন ও আয় উল্লেখযোগ্য হারে না বাড়ায় কোম্পানির প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। অভিহিত মূল্যের সঙ্গে শেয়ারপ্রতি ১৬ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে ২৬ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করা কোম্পানিটির দর নি¤œমুখী ধারায় রয়েছে। ডিএসইর তথ্যমতে, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে গতকাল সর্বশেষ কার্যদিবস পর্যন্ত দেড় বছরে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা দর হারিয়েছে তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে আগস্টে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন নেয় ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা বস্ত্র খাতের কোম্পানি তশরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। নর্দার্ন-তশরিফা গ্রুপের ওই কোম্পানিটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় ২০০৫ সালে। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাতে পুঁজিবাজারমুখী হয় কোম্পানিটি। এরপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন ও আইপিও প্রক্রিয়া শেষে ২০১৫ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়, লেনদেন শুরু করে ১৭ জুন। কোম্পানিটির প্রায় ছয় কোটি ৩১ লাখ শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতেই ৫৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

 

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..