দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আইপিও অনুমোদনের হিড়িক, বিশ্লেষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) রদবদলের পরই কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের হিড়িক পড়েছে। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ১০টি কোম্পানির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এর আগে কখনও এত কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দেখা যায়নি। পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের জোগান বাড়তেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এতে ভালো শেয়ারের জোগান বাড়ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বর্তমান কমিশনের আমলে যেসব কোম্পানির আইপিও অনুমোদন মিলেছে সেগুলো হচ্ছে মীর আখতার হোসেন, অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন, ডোমিনোজ স্টিল, রবি আজিয়াটা, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, লুবরেফ বাংলাদেশ, এএফসি হেলথ, তাফিকা ফুডস এবং এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।

এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পায় রবি। অভিহিত মূল্যে অর্থাৎ প্রতিটি ১০ টাকায় ৫২ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪টি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা সংগ্রহ করবে রবি, যা হবে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ শেয়ার ইস্যু।

রবির শেয়ারের মধ্যে ৩৮৭ কোটি ৭৪ লাখ ২৪ হাজার টাকার শেয়ার আইপিওতে ইস্যু করা হবে বিনিয়োগকারীদের জন্য। বাকি ১৩৬ কোটি ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৪০ টাকার শেয়ার ইস্যু করা হবে কোম্পানির কর্মচারীদের জন্য।

খসড়া প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ৪ হাজার ৭১৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের রবির ২০১৯ সালে টার্নওভার হয়েছে ৭ হাজার ৪৮১ কোটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এই টার্নওভার থেকে সব ব্যয় শেষে নিট মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা শেয়ারপ্রতি হিসেবে মাত্র ৪ পয়সা।

অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে লুবরেফ বাংলাদেশ ১৫০ কোটি, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ৫০ কোটি, অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেন ১৫ কোটি, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ১৬ কোটি টাকা এবং এএফসি হেলথ ১৭ কোটি টাকার আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হয়।

তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ডোমিনোজ স্টিল ৩০ কোটি, তাফিকা ফুডস ৩০ কোটি, এনার্জি পাওয়ার জেনারেশন ১৫০ কোটি এবং মীর আখতার হোসেন ১২৫ কোটি টাকার সংগ্রহ করার অনুমোদন পায়। আইপিও অনুমোদন পাওয়া বেশিরভাগ কোম্পানিই পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং ঋণ পরিশোধ করে।

এদিকে স্বল্প সময়ে বেশি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন নিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ বিএসইসিকে সাধুবাদ জানালেও অনেকেই বলছেন, আইপিও অনুমোদনে বিএসইসির আরও একটু হিসাবি হওয়া দরকার। কারণ শেয়ারের জোগান বাড়াতে গিয়ে যদি নি¤œমানের কোম্পানি বাজারে চলে আসে তা ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে। এতে পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগকারী উভয়েরই ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হবে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্ট ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শেয়ার বিজেকে বলেন, ‘আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে আরও বেশি কোম্পানি তালিকাভুক্ত থাকা দরকার। সেদিকে হিসাব করলে বলা যায় না যে, বিএসইসি খুব বেশি কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দিয়েছে। তবে যে কোনো কোম্পানির অনুমোদন দেওয়ার আগে সেই কোম্পানির বিগত বছরগুলোর ব্যবসা, আর্থিক পরিস্থিতিসহ অন্যান্য সব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার।’

একই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাজারসংশ্লিষ্ট বলেন, আগের কমিশন বিতর্কিত হয়েছেন মানহীন আইপিও অনুমোদন দেওয়ার জন্য। তাদের সময়ে বেশিরভাগ কোম্পানিই এসেছে মানহীন। বিনিয়োগকারীরা এখনও তার মাশুল দিচ্ছে। বর্তমান কমিশন বেশি বেশি আইপিও অনুমোদন দিচ্ছে, এটা ভালো কথা। তবে কোনো কোম্পানির বেলায় শর্ত শিথিল করা উচিত নয়। কমিশনের এসব দিকে নজর রাখা দরকার।

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বিএসইর নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘কোনো কোম্পানির মানহীন মনে হলে বা কাগজপত্রে ঝামেলা থাকলে আমরা তা বাতিল করছি। পাশাপাশি সবকিছু ঠিক থাকলেই কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..