দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আইপিও ইস্যুতে নতুন মুখ বাড়ছে পুঁজিবাজারে

২২ কার্যদিবসে ১৭ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: সম্প্রতি পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির অনুমোদন সংখ্যা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত এক মাসে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার অনুমতি পেয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এই তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটা।

এদিকে নতুন কোম্পানি আসার খবরে পুঁজিবাজারের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে সাধারণ জনগণের, যে কারণে বাড়ছে নতুন বিনিয়োগকারী। ২২ দিনে পুঁজিবাজারে যোগ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার নতুন বিনিয়োগকারী। এই সময়ের ব্যবধানে বিও অ্যাকাউন্ট ২৩ লাখ ১৬ হাজারর ৯৯৬ থেকে বেড়ে ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩২টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ১৬ হাজার ৮৪১টি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, বহুদিন পর পুঁজিবাজার ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় ফিরে এসেছে। বাজারের এই অবস্থায় সবসময়ই বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে। তবে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগকারী বাজারে আসে প্রাইমারি মার্কেট অংশগ্রহণ করার জন্য। অর্থাৎ বাজারে আইপিও অফার থাকলে তারা নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলেন। বর্তমান বাজারে সেই পরিস্থিতি ফিরে এসেছে, যে কারণে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, বাজারে নতুন আইপিওর অফার থাকলে সাধারণত বিও অ্যাকাউন্ট বাড়ে। এটা সব সময়ই হয়ে থাকে। তবে এবারের বিষয়টি একটু আলাদা। এখন বাজারে ভালো ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য অনুমোদন মিলছে। বিএসইসিও খুব দেখেশুনে কোম্পানির অনুমোদন দিচ্ছে, যে কারণে বাজারের প্রতিও আস্থা বেড়েছে সবার, যার ফলে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি বলেন, কোনো কারণে বাজারে পতন নামলে বিনিয়োগকারী বাজার ছেড়ে চলে যান। তবে এটা ঠিক নয়। আমি মনে করি সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করার সঠিক সময় পতনের বাজার।

নিয়মানুযায়ী, জুন মাসে বিও ফি পরিশোধ না করলে সেসব অ্যাকাউন্ট এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যেসব হিসাবে শেয়ার কিংবা টাকা থাকে, সেসব হিসাব বন্ধ হয় না।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩-এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাবরক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়। এর আগে পঞ্জিকাবর্ষ হিসাবে প্রতি বছর ডিসেম্বরে এই ফি জমা নেওয়া হতো। তবে ২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি প্রদানের সময় জুন মাস নির্ধারণ করে। এ সময়ে বিও নবায়ন ফি ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। এরপর বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল এক সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও হিসাব নবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। নাহলে তা বাতিল করা হবে বলে ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল। বর্তমানে বিও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ টাকা।

মূলত ২০১০ সালের পর থেকে বিও অ্যাকাউন্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে। বর্তমানে মোট বিও অ্যাকাউন্টের অর্ধেকের বেশি হচ্ছে শেয়ারশূন্য। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে মোট বিওর মধ্যে শেয়ারশূন্য এবং ব্যবহার করা হচ্ছে না এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি।

প্রসঙ্গত, গত বছরও সময়মতো বিও ফি পরিশোধ না করায় বাতিল হয়ে গেছে প্রায় দুই লাখ অ্যাকাউন্ট। সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা পরিস্থিতি, সেইসঙ্গে আইপিও বাজারের নাজুক পরিস্থিতির জন্য এসব অ্যাকাউন্ট ঝরে গেছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় তারা আবারও ফিরে আসছেন।

গত অর্থবছরে প্রথমে ৮৪ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়। পরে বাতিলের খাতায় যোগ হয়েছে আরও এক লাখ ১১ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট। ফলে মোট বাতিল বা বন্ধ হয়ে যাওয়া বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ৯৫ হাজার, যা আগের বছরের চেয়ে দুই হাজার বেশি। আগের বছর এই সময়ে বাতিল হয়েছিল এক লাখ ৯৩ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট।

৩০ জুন পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করার সুযোগ থাকলেও গত অর্থবছরে করোনাভাইরাসের কারণে বিও হিসাবধারীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বেশিরভাগ ব্রোকারেজ হাউসই জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই সুযোগ রাখে। এর পরই সিডিবিএলে বাতিল বিওর হিসাব দেওয়া লাগে। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে বেশিরভাগ হাউসই বিনিয়োগকারীদের জন্য অপেক্ষা করেছে। কিন্তু এতে কোনো সাড়া মেলেনি, যে কারণে শেষ সময়ে এসে বন্ধ বিও হিসাব দিয়েছে অনেক হাউস কর্তৃপক্ষ। এ কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে বাতিল বিওর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতির জন্য এ বছর বিনিয়োগকারীদের হাউসে উপস্থিতি কম ছিল। এ জন্য যেসব বিওতে শেয়ার অথবা নগদ টাকা ছিল না, সে হিসাব নবায়ন করার কথা ভাবেননি তারা, যে কারণে অনেক বিও বাতিল হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর বাতিল বিওর সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। সামনে কিছু কোম্পানি বাজারে আসবে, এই খবরে বিও বাতিলের সংখ্যা কম হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..