প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আইপিও প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা জরুরি

মার্কেট ওয়াচ

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

 

দেশের পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের অভাব রয়েছে। তার মানে এই নয় যে, দেশে ভালো কোম্পানি নেই। বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানি চাইলেই বাজারে আসতে পারে। কিন্তু নানা কারণে তারা পুঁজিবাজারে আসতে চায় না। এর অন্যতম কারণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে আসার প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের এমডি মোহাম্মদ আহছান উল্যাহ ও আইআইডিএফসি ক্যাপিটালের সিইও সালেহ আহমেদ।

মোহাম্মদ আহছান উল্যাহ বলেন, কিছুদিন আগে আমরা ভারতের মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ সূচকের বড় পতন থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালÑএ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জানতে চাই আমরা। তারা জানালেন, বাজারের খারাপ সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে যে সমর্থন দেওয়া দরকার ছিল, তা আমরা দিয়েছি। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় বিনিয়োগকারী যারা আছেন তারা হয়তো ভেবেছেন, মার্কেট আর নিচে নামার সুযোগ নেই। সুতরাং এখনই শেয়ার কেনা বা বিনিয়োগের উত্তম সময় এবং তারা বিনিয়োগ শুরু করে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও সমর্থন দিল। এভাবেই তারা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। তবে ওখানে একটি বিষয় আমরা লক্ষ্য করেছি, যা আমাদের মার্কেটের জন্য খুবই দরকার। তা হচ্ছে, তাদের আইপিওতে আসার প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও দ্রুত। আবেদনের দুই-তিন মাসের মধ্যে আইপিও অনুমোদন হয়। আর আমাদের দেশে তা এক, দুই বা তিন বছরও সময় লেগে যায়। কাজেই এ বিষয়টি বাজারসংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় আনা দরকার।

সালেহ আহমেদ বলেন, কিছু গুজবের কারণে হয়তো কেয়া কসমেটিক্সের ট্রেড ভলিউম বেড়েছে। আর এখন এটির লভ্যাংশ ঘোষণার সময় চলে এসেছে। তাছাড়া মালিকানা পরিবর্তন নিয়েও কিছু কথা শোনা যাচ্ছে, যা গুজব আকারে বাজারে চলে এসেছে। এটিও দর বাড়ার কারণ হতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীরা যদি এ শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকেন এবং দর যদি পড়ে যায় তাহলে ধৈর্য ধরেন। আমি মনে করি দর বাড়বে। আমার ধারণা, এখান থেকে লোকসান হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, হুজুগে বিনিয়োগ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। কাজেই বিনিয়োগের আগে কোম্পানির ইতিহাস দেখে বিনিয়োগ করুন। তাছাড়া আগেও একবার বলেছিলাম, ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলো ওঠানামা কম করে এবং ডিভিডেন্ডও ভালো দেয়। লক্ষ করলে দেখবেন, প্রতিটি ব্যাংক ডিভিডেন্ড খেয়ে ডিভিডেন্ড মুক্ত করে দিয়েছে। অন্যদিকে যারা নতুন করে ডিভিডেন্ড দেবে, সেসব কোম্পানি দেখে যদি কম দামে শেয়ার সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কাজেই জেনেবুঝে বিনিয়োগ করুন। প্রফিট পাবেন।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম