স্পোর্টস

আইসিসির হল অব ফেমে শচীন

স্পোর্টস ডেস্ক: সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক শচীন টেন্ডুলকার ও দক্ষিণ আফিকার সাবেক পেসার অ্যালেন ডোনাল্ড এবং সাবেক অস্ট্রেলিয়ার নারী ফাস্ট বোলার ক্যাথরিন ফিটজাপট্রিক আইসিসির নতুন হল অব ফেমে জায়গা করে নিয়েছেন। এ তিনজনকে গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো ক্রিকেটারকে এ তালিকায় প্রবেশ করতে হলে ন্যূনতম পাঁচ বছর আগে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে হয়। ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক শচীন নভেম্বর ২০১৩ সালে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। হল অব ফেমের এলিট লিস্টে তিনি ষষ্ঠ ভারতীয় হিসেবে জায়গা করে নেন। তার আগে সুনিল গাভাস্কার, বিশান সিং বেদি, কপির দেব, অনিল কুম্বলে এবং রাহুল দ্রাবিড় এ ক্লাবে প্রবেশ করেন।
ক্রিকেট বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ টেস্ট ম্যাচে খেলেছেন শচীন। ক্রিকেটের বড় সংস্করণে ১৫৯২১ রান আছে তার নামের পাশে। এছাড়া একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৮৪২৬ রান করেছেন লিটল মাস্টার। ২০১১ বিশ্বকাপজয়ী এ ক্রিকেটার ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০টি সেঞ্চুরির মালিক। ৫১টি টেস্ট ক্রিকেটে ও ৪৯টি ওয়ানডে ক্রিকেটে।
বিরল এ অর্জনের পর শচীন জানিয়েছেন তার অনুভূতি, ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্রিকেটারদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া আইসিসির হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তিটা বিরাট সম্মান। এ সম্মানপ্রাপকরা খেলার বৃদ্ধি ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে নিজেদের অবদান রেখেছেন। সামান্য কিছু করতে পেরে আমিও খুশি।’
দক্ষিন আফিকার কিংবদন্তি পেসার অ্যালান ডোনাল্ড ২০০৪ সালে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। প্রাটিয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই প্রথম টেস্টে ৩০০ উইকেট ও ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট লাভ করেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৬০২ উইকেট দিয়ে তিনি ক্রিকেটের ইতি টানেন।
‘বড় ধাক্কা লাগবে যখন আপনি এমন ই-মেইল খুলে দেখবেন যে সেখানে বলা হচ্ছে অভিনন্দন অ্যালান ডোনাল্ড, আপনি আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে অভিষিক্ত হয়েছেন। এমন তথ্য ধাক্কা দেওয়ার মতো, কারণ এটা সম্মানজনক একটা পুরস্কার এবং এটাকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বিশাল সম্মানের জন্য আইসিসিকে ধন্যবাদ জানাই।’-নিজের অনুভূতি এভাবেই ব্যক্ত করেছেন সাবেক এ প্রোটিয়া পেসার।
ক্রিকেট ইতিহাসে অষ্টম নারী হিসেবে এ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন অস্টেলিয়ার নারী ফাস্ট বোলার ক্যাথরিন ফিটজাপট্রিক। ১৬ বছরের অন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৮০ ওয়ানডে উইকেট আছে তার ঝুলিতে। অজি নারী দলের ১৯৯৭ ও ২০০৫ বিশ্বকাপ জয়ে দারুণ অবদান রাখেন এ ক্রিকেটার। মে ২০১২ থেকে মে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অজি দলের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ সময় অস্ট্রেলিয়া নারী দল একটি বিশ্বকাপ ও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশকালে ক্যাথরিন বলেন, ‘এ পুরস্কার অর্জন বিশাল সম্মানের। ইতিপূর্বে যারা এ গৌরবের অংশীদার হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই ছিলেন ম্যাচের মোড় পরিবর্তনকারী এবং তারা যথেষ্ট মেধাবি ছিলেন। তার খেলায় অংশ নিতেন এবং তা নিজেদের মতো করে পরিবর্তন করতেন।’
হল অব ফেমে নাম লেখানো তিনজন ক্রিকেটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আইসিসি। শচীন, ডোনাল্ড ও ফিটজাপট্রিককে দুর্দান্ত ক্রিকেটারও আখ্য দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..