সম্পাদকীয়

আউটসোর্সিংয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোগ নিন

আধুনিক যুগে আন্তর্জালের (ইন্টারনেট) মাধ্যমে কোনো কাজ করিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে নিয়োগকর্তা ও কর্মীর (ফ্রিল্যান্সার) সম্পর্ক শুধুই কাজের। স্বাধীনভাবে কাজ করে অর্থ উপার্জনের অপেক্ষাকৃত সহজ পেশা ফ্রিল্যান্সিং।

আউটসোর্সিং সাইট বা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে একজন ফ্রিল্যান্সার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং ও তথ্যব্যবস্থা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, লেখা ও অনুবাদ, ডিজাইন ও মাল্টিমিডিয়া, প্রশাসনিক সহায়তা, গ্রাহকসেবা, ব্যবসাসেবা, বিক্রয় ও বিপণনসহ নিয়োগকর্তার বিভিন্ন কাজ করে দিতে পারেন। ঘরে বসে আন্তর্জালের মাধ্যমে আয় করছেন অনেকে।

বিশ্বে বছরে এক লাখ কোটি ডলারের বাজার রয়েছে আউটসোর্সিংয়ে। সব কর্মক্ষম ব্যক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা কষ্টসাধ্য। জনশক্তিকে আউটসোর্সিংয়ে দক্ষ করা গেলে চাকরির জন্য বিপুল জনশক্তিকে বিদেশ যাওয়ার জন্য কসরত করতে হয় না। দেশে বসেই আয় করা সম্ভব। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘আউটসোর্সিং: বড় হচ্ছে বাজার, বাড়ছে কর্মসংস্থান’ শীর্ষক প্রতিবেদন কর্মসংস্থানপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের মনে আশার সঞ্চার করবে বলেই ধারণা।

খবরে বলা হয়, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) খাত। গত চার বছরে দেশের প্রায় ৫০ হাজার জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে খাতটিতে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে এ খাত। গত চার বছরে এ খাতে আয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

আমরা মনে করি, তরুণদের আউটসোর্সিংয়ে আগ্রহী ও উপযোগী করা গেলে এ খাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।

আউটসোর্সিংয়ের মতো কাজে এ দেশের তরুণদের সুযোগ করে দিতে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা। অবশ্য তরুণ-তরুণীদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য সারা দেশে ৫৫৪টি বিপিও সেন্টার স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। চাকরি না পেয়ে তাদের অনেককে অভিশপ্ত বেকার জীবনযাপন করতে হয়। তাই এসব তরুণ-তরুণীর আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বিপিও খাতে কাজ করার উপযোগী করতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে প্রশসংনীয়। অনেক থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রাপ্য সুবিধা প্রদানে অনীহা দেখায়। তাই এ খাতে সরকারের নজরদারি বাড়ানো উচিত।

আউটসোর্সিং করার জন্য উচ্চশিক্ষিত হতে হয় না, কিছু প্রশিক্ষণ নিয়েই কাজ করা যায়। দেশের ৭০ শতাংশ তরুণের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এদের কাজে লাগাতে হবে। সব ইউনিয়নে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছানো এবং এর ব্যবহারের খরচ আরও কমিয়ে আনা গেলে আউটসোর্সিং অচিরেই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় খাতে পরিণত হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..