আগস্টে যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রিতে ধস

সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয়

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিডের নতুন ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং ব্রেক্সিট ইস্যুতে শ্রমিক সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে বিদায়ী আগস্ট মাসে টানা চতুর্থ মাসের মতো দেশটিতে খুচরা বিক্রি হ্রাস পেয়েছে, যা ১৯৯৬ সালের নথিভুক্তির পর থেকে গত ২৫ বছরের মধ্যে টানা চতুর্থ মাসে খুচরা বিক্রি হ্রাস পাওয়ার ঘটনা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পাব ও রেস্টুরেন্টে ভোক্তাব্যয় বাড়ানোর কারণে খুচরা বিক্রিতে অবনতি হয়েছে। খবর: গার্ডিয়ান, ব্লুমবার্গ।

স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (ওএনএস) এক প্রতিবেদন  প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে খুচরা বিক্রি দুই দশমিক আট শতাংশ হ্রাসের পর আগস্টে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যদিও বর্তমান বিক্রি কভিডপূর্ব স্তরে রয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের ধারণা ছিল, শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হ্রাস পাবে।

খুচরা বিক্রি হ্রাসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কভিড বিধিনিষেধ সহজ করায় আগস্টে ভোক্তারা সুপারমার্কেট থেকে পাব ও রেস্টুরেন্টে বেশি ব্যয় করেছে, যার কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে আগস্টে খুচরা বিক্রি কমেছে।

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কভিড-পরবর্তী আতিথেয়তা খাতে বিধিনিষেধ সহজ করার পর মানুষের সামাজিক কর্মকাণ্ড, যেমন রেস্টুরেন্ট, পাব ও বারে খাওয়া-দাওয়া ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গত মাসে খাদ্যব্যয় বেড়েছে এক দশমিক দুই শতাংশ।

এদিকে শ্রমিক ও পণ্য সংকটে সরবরাহ বিপর্যয় হওয়ায় পুরো গ্রেট ব্রিটেনেই আগস্টে বিভিন্ন খাতের খুচরা বিক্রি হ্রাস পেয়েছে।

পণ্য ও শ্রমিক সংকটে ব্রিটেনের বড় বড় খুচরা বিক্রেতা কোম্পানিগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের কারণে আশির দশক থেকে সুপারমার্কেটে স্টক কমে গেছে।

এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদ নিরাজ শাহ বলেন, চলতি সেপ্টেম্বরে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অনুষ্ঠিতব্য সভায় সুদহার নিয়ে কঠোর নীতির ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে।

এদিকে ওএনএসের তথ্য বলছে, সুপারমার্কেট ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরের অন্য খাতগুলোয়ও বিক্রি কমেছে। তবে লকডাউনে ভোক্তারা বাইরে খাওয়া বন্ধ করলেও লকডাউন তুলে নেয়ার পর তারা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে বেশি ব্যয় করেছেন।

এদিকে অন্য একটি জরিপে দেখা যায়, পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটায় আগস্টে যুক্তরাজ্যের ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ খুচরা বিক্রেতা ভালো পণ্যসেবা দিতে পারেনি। জরিপে দেখা যায়, ৯ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত তারা কাঁচামাল ও সেবা দিতে পারেনি। এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল ডিপার্টমেন্ট স্টোরে। সেখানে তারা ১৮ দশমিক দুই শতাংশ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরপর পোশাক স্টোরে ১১ দশমিক দুই শতাংশ মানুষ পর্যাপ্ত পণ্য না থাকায় কিনতে পারেনি।

এ বিষয়ে ফান্ড ম্যানেজার ফাইডলিটি ইন্টারন্যাশনালের সহ-পরিচালক ইমা লু মন্টগোমেরি বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বেশিরভাগ খাতই পুনরুদ্ধার করা যায়নি। তিনি বলেন, সম্প্রতি পণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়ায় ভোক্তারা পণ্য খাতে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে সম্প্রতি ওএনএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের দুই শতাংশ থেকে বেড়ে তিন দশমিক দুই শতাংশে পৌঁছেছে। পাব, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভোক্তাব্যয় বৃদ্ধি করায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সর্বশেষ..