বিশ্ব সংবাদ

আগস্টে ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিন্মে চীনের শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে চীনের অর্থনীতিতে। দেশটির শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিন্মে পৌঁছেছে। এতে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে আরও শ্লথগতি দেখা দিয়েছে। খবর: রয়টার্স।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে শিল্প প্রবৃদ্ধি হয়েছে চার দশমিক চার শতাংশ। গত ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটিই এ খাতে দেশটির সবচেয়ে সর্বনিন্ম প্রবৃদ্ধি। এর আগে জুলাই মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল চার দশমিক আট শতাংশ। রয়টার্সের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল প্রবৃদ্ধি হবে পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ। অর্থাৎ আশঙ্কার চেয়েও বেশি কমেছে শিল্প উৎপাদন। গত মাসে দেশটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে চার দশমিক তিন শতাংশ। খুচরা বিক্রি ও বিনিয়োগও ছিল খারাপ অবস্থায়।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিটিগ্রুপ ইনকরপোরেশন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়েছে। তারা চলতি বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছয় দশমিক তিন শতাংশ থেকে কমিয়ে ছয় দশমিক দুই শতাংশ করেছে এবং আগামী বছরের জন্য পূর্বাভাস ছয় শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ দশমিক আট শতাংশ করেছে।
চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। কিন্তু প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক তিন শতাংশ। সব মিলিয়ে বছর শেষে প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশ ধরে রাখাই কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গতকাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কেশিংয়াংও বলেছেন, চলতি বছর ছয় শতাংশ বা তার বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে। কারণ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের খারাপ অবস্থাকে দায়ী করেছেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি থেকে বের হতে পারছে না চীন। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) কমেছে প্রবৃদ্ধির হার। এ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক দুই শতাংশ। ১৯৯২ সালের পর এটি সর্বনিন্ম প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরে অর্থনীতিকে চাঙা করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয় চীন। ভোক্তা ব্যয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কর কমিয়েছে সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণেই অর্থনীতির গতি বাড়েনি।
গত দশকের বিশ্ব প্রবৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশ এসেছে চীন থেকে। অথচ দেশটির অর্থনীতিতে এখন দুর্বল অবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
শ্লথ অর্থনীতিতে প্রণোদনা দিতে সম্প্রতি রিজার্ভ রিকয়ারমেন্ট রেশিও (আরআরআর) এক শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ১৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ করেছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার হার ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের পর এবারই সর্বোচ্চ পরিমাণ কমাল চীন।

সর্বশেষ..