সম্পাদকীয়

আগামী বাজেটে কমানো হোক করের বোঝা

কয়েকদিন পরই জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (এনকভ-২০১৯) বিরূপ প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। সব দেশের অর্থনীতিই এখন বিপর্যস্ত। ব্যবসা গুটিয়ে ফেলছেন ব্যবসায়ীরা। চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে। সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ। বাংলাদেশও এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কভিডের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। দেশের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বিভিন্ন ধরনের ফল-ফসল নষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যৎ চিন্তায় একপ্রকার অস্বস্তিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘মহামারিতে আসছে স্বস্তির বাজেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন আশার সঞ্চার করবে বলেই ধারণা। এতে বলা হয়েছে, কমতে পারে ব্যাংকের করহার, বাড়তে পারে করমুক্ত আয়সীমা, সিগারেটে ‘কভিড-১৯ ট্যাক্স’ বসতে পারে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমতে পারে।

বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। বাজেট ঘোষণার আগেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা। সাধারণ করদাতাদের ছাড় দেওয়া হয় না, ধনীদের সারচার্জমুক্ত সম্পদের সীমা বাড়ানো হয়। অবারিত করে দেওয়া হয় কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ। প্রতিবছরই বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে, ঘাটতি বাড়ে।

বাজেটের সুফল পায় সাধারণত উচ্চবিত্তের মানুষরা, এমনই অভিযোগ অনেকের। এবারও সে ধরনের কিছু ঘটলে আশাহত হবে সাধারণ মানুষ। জীবন-জীবিকা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষজন। সীমিত আয়ের লোকজনও  যাতে বাজেটের সুফল পায় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ঘোষিত হওয়ার পর আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংশোধিত বাজেট সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের পর প্রায় আলোচনা ছাড়াই আইনে পরিণত হয়। এ গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেটকে জনবান্ধব ও উন্নয়ন অগ্রগতির সহায়ক করে তুলতে হলে অবশ্যই অর্থবহ আলোচনা-বিতর্ক হওয়া জরুরি।

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বড় বিনিয়োগ খুবই প্রয়োজন। বিনিয়োগ বাড়লে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে করপোরেট করে ছাড় দেওয়ার বিকল্প নেই। বিশ্বের সব দেশ বিনিয়োগ বাড়াতে ছাড় দিয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগের নামে নয়ছয় এবং প্রণোদনার অপব্যবহারে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। তাই পরিকল্পনা, বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, দুষ্টচক্রের দৌরাত্ম্য, খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে সেটির প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..