সারা বাংলা

আগাম জাতের বাঁধাকপি চাষে লোকসানে যশোরের চাষিরা

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: বৈরী আবহাওয়া ও মাত্রাতিরিক্ত পোকার আক্রমণে আগাম জাতের শিমের পর এবার বাঁধাকপিতে ফলন বিপর্যয়ের কবলে পড়েছেন যশোরের চাষিরা। ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে গোড়ায় পচন ধরছে। এতে অধিকাংশ ক্ষেতের বাঁধাকপির ফলন কমে গেছে। এ কারণে বিঘাপ্রতি অন্তত ১০ হাজার টাকার লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

জানা গেছে, যশোর অঞ্চলে একসময় শুধু শীত মৌসুমে সবজি চাষ হলেও এখন বছরজুড়েই চলে আগাম সবজির চাষ। শীত কিংবা গ্রীষ্ম সারা বছর যশোরে ক্ষেতজুড়ে নানা জাতের সবজি ভরপুর থাকে। বিশেষ করে শীতের আগমনের আগেই আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ করে জেলার কৃষকরা বাড়তি আয় করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর যশোরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চাষ করা হয় আগাম শীতকালীন শিম, মুলা ও বাঁধাকপি। কিন্তু ফলন বিপর্যয়ের কারণে কৃষক লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, যশোরে চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ হয়েছে। এসব সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জমিতে শিম, বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষ হয়েছে। অন্যান্য বছর আগাম জাতের এই সবজি বাজার দখল করলেও এবার বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকরা ফলন বিপর্যয়ে পড়েছেন।

তারা বলছেন, এবার শিম চাষে তারা চরম লোকসান গুনেছেন। পুরো মাঠজুড়ে সবুজ আর বেগুনি রঙের বাহার। তবে এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি ও তাপমাত্রার কারণে ফলন নেই বললেই চলে। একই অবস্থা বাঁধাকপি ও ফুলকপির। মাঠে ব্যাপক বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষ হলেও তেমন ফলন হচ্ছে না।

যশোর সদর উপজেলার নোঙরপুর এলাকার চাষি আব্দুর রহমান জানান, তিনি চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন। এক মাস আগে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফলন আসে। তবে বর্তমানে গাছে কোনো ফুল ও ফল দাঁড়াচ্ছে না। বিঘাপ্রতি দুই থেকে তিন কেজিও শিম পাওয়া যাচ্ছে না। একই পরিস্থিতি বাঁধাকপি ও ফুলকপির ক্ষেত্রে। বাঁধাকপি গাছের গোড়ায় পচন ধরার কারণে পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে, যে কারণে আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এতে বিঘাপ্রতি তার লোকসান হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

একই মাঠের কৃষক আব্দুল হাই জানান, এ বছর ধারদেনা করে কপি চাষ করেছেন তিনি। চাষের শুরুতে কপির ভালো ফলনের লক্ষণ দেখা গেলেও উৎপাদনের উপযুক্ত সময়ে এসে পোকার আক্রমণ দেখা গেছে, যে কারণে গাছের পাতা শুকিয়ে আকৃতি ছোট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করার পরও পোকা দমন করা যাচ্ছে না। কৃষি বিভাগের লোকজন বলছেন, জমিতে নিয়মিত সেচ ও সার-কীটনাশক দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সার-কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

যশোর জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁধাকপি হয় যশোর সদর উপজেলায়। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় চাষ হয়েছে এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। আগাম জাতের শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত এ বাঁধাকপি চাষ করে প্রতিবছর চাষিরা প্রচুর টাকা আয় করেন।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাজ্জাদ হোসেন সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, সাধারণত শীত মৌসুমের সবজির চাষ অন্য মৌসুমে করতে গেলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ আবহাওয়া কখন কী অবস্থায় থাকে বলা মুশকিল হয়ে পড়ে। তবে এ বছরে বৃষ্টি ও তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় শুধু বাঁধাকপি নয়, অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রে একই অবস্থা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে গিয়ে কৃষকদের জমিতে সুষম সার ব্যবহার ও ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া জমিতে পানি যেন না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..