প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আগাম জাতের সবজি ভালো দাম পেয়ে খুশি বগুড়ার চাষিরা

 

আলমগীর হোসেন, বগুড়া: বগুড়ার চাষিরা আগাম জাতের সবজির ভালো দাম পেয়েছেন। তাই তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। এমন দাম পেলে ভবিষ্যতে জেলায় সবজির আবাদ বাড়বে বলে কৃষিবিভাগ আশা করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রায় ৫১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। একমাত্র ফুলবাড়ী ও নারচী ইউনিয়নে শতাধিক চাষি আগাম জাতের সবজি চাষ করেছেন। সবজির মধ্য রয়েছে লাউ, শাক-সবজি, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, শিম, শশা ও কাঁচা মরিচ।

ফুলবাড়ী নয়াপাড়া গ্রামের চাষিরা ১০ বছর ধরে সবজি চাষ করায় এরই মধ্যে গ্রামটি সবজি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামের ছানাউল মণ্ডল ৩২ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের বেগুন চাষ করেছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম থেকে তিনি প্রায় ১৪০ মণ বেগুন বিক্রি করেছেন। বাজারে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ টাকা পাইকারি মূল্যে বিক্রি করে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ২৩ হাজার টাকা।

একই গ্রামের আনছার আলী ৪৫ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। তার খরচ হয়েছিল প্রায় ১৬ হাজার টাকা। তিনি এ পর্যন্ত এক লাখ ২৫ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছেন। আরও ২০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান। নারচী ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামের শাহিদা বেগম এবার পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম জাতের প্রায় ৩৬ হাজার বাঁধাকপির চাষ করেছিলেন। এর মধ্য সাড়ে তিন লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। এখনও তিনি লক্ষাধিক টাকার কপি বিক্রি করতে পারবেন।

নয়াপাড়ার মণ্ডলবাড়ী গ্রামের বিএ পাস মহিদুল ইসলাম সরকারি চাকরি না পেয়ে আগাম জাতের কাঁচা মরিচের চাষ করেছেন। এছাড়াও ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের কৃষি ডিপ্লোমাধারী নজরুল ইসলাম ৪৫ শতক জমিতে আগাম জাতের কাঁচা মরিচের চাষ করেছেন। এরই মধ্য তিনি ৭৫ হাজার টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছেন।

বগুড়া সদর উপজেলার দশটিকা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তাতে মোট খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তিনি এ পর্যন্ত এক লাখ ৩০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। শিবগঞ্জ উপজেলার ছোট বালুয়া এলাকার বাঁধাকপি চাষি দেলোয়ার হোসেন জানান, দেড় বিঘা জমিতে চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রতুল সরকার জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে দীর্ঘদিন সব সবজির দাম ভালো ছিল। তাই চাষিরা লাভবান হয়েছেন। এমন দাম পেলে ভবিষ্যতে জেলায় সবজি চাষ বাড়বে।